সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে যখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও কার্যালয় দখলের খবর আসছে, ঠিক তখনই বনগাঁ ও বাগদায় দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চিত্র। একদিকে বনগাঁয় দখল হওয়া তৃণমূল কার্যালয় সসম্মানে ফিরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যের পরিচয় দিল বিজেপি, অন্যদিকে রাজ্যে শান্তি কামনায় নিজেদের রক্ত দিয়ে মন্দিরে পুজো দিলেন বাগদার একদল মহিলা।
৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়, পঞ্চায়েত ও পুরসভা হাতবদলের খবর আসছিল। বুধবার সকালে বনগাঁ পুরসভার ১৪ নম্বর ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুটি দলীয় কার্যালয় পুনরায় ঘাসফুল শিবিরের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বিজেপি কার্যকর্তারা।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কার্যালয় দখলের এই ‘অপসংস্কৃতি’ তাঁদের দলের আদর্শ নয়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই কেউ কেউ মুখে গেরুয়া আবির মেখে এসব কাণ্ড ঘটিয়েছে এবং দায় চাপাচ্ছে বিজেপির ওপর। দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁরা এই কার্যালয়গুলি তৃণমূলকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা যারা ঘটিয়েছে, প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।
অন্যদিকে, এক অভিনব এবং রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল বাগদা বিধানসভার বয়রা উত্তরপাড়া এলাকা। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এবং দেশ ও রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার কামনায় হনুমান মন্দিরে পুজো দেন গ্রামের মহিলারা। তবে এই পুজোর উপাচার ছিল একেবারেই অন্যরকম। ভক্তি ও সংকল্পের চরম নিদর্শন হিসেবে মহিলারা নিজেদের বুক থেকে রক্ত বের করে তা দিয়ে বজরংবলীর চরণে অর্ঘ্য নিবেদন করেন।
পুজো দেওয়ার সময় ওই মহিলারা জয় শ্রীরাম ধ্বনি এবং বিজেপির সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে, এখন যেন সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে– সেই প্রার্থনাতেই তাঁরা এই কঠোর ব্রত পালন করেছেন। একদিকে কার্যালয় ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে সৌজন্যের বার্তা, অন্যদিকে ভক্তিতে রক্তদানের ঘটনা দুই-ই জনমানসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন