সমকালীন প্রতিবেদন : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নারী ও শিশু পাচারের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য ড: অর্চনা মজুমদার। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্তে এসে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় নারী ও শিশু পাচারের বর্তমান পরিস্থিতি, পাচার রোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডক্টর মজুমদার জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত নারী পাচারের “সেফ করিডর” হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, “প্রতিদিনই নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটছে। এদের অনেককেই বিএসএফ উদ্ধার করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া সেই নারীদের প্রতি প্রশাসনের আচরণ অত্যন্ত উদাসীন। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও সঠিক পরিকল্পনা ও যত্নের অভাব রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া নারীদের শুধু উদ্ধার করাই যথেষ্ট নয়, তাদের পুনর্বাসন এবং সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। সেই দায়িত্ব পালনে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সচেতন নয় বলেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক অংশ দিয়ে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার চক্র সক্রিয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বহু পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে এবং একাধিক নারী-শিশুকে উদ্ধার করেছে।
জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া নারীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল এবং সমন্বিত নীতি গঠনের বিষয়টিও সরকারের কাছে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কমিশনের এই পরিদর্শন ও বৈঠককে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।
ডক্টর মজুমদারের কথায়, “নারী পাচার কেবল সীমান্ত সমস্যাই নয়, এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সমাজের সকলে একসঙ্গে কাজ করলে তবেই এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।”









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন