Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ: দেশে রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধি ও বুকিংয়ে নয়া কড়াকড়ি

 

Cooking-gas-booking

সমকালীন প্রতিবেদন : ক্রমশ জটিল হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা ১০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশে এক ধাক্কায় ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো ৬০ টাকা। একইসঙ্গে গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে এবং মজুত ভাণ্ডারে টান পড়া আটকাতে গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মেও বড়সড় বদল আনল কেন্দ্র।

গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়তে পারে। যদিও সরকারের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি। ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ৮৭৯ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে এখন উপভোক্তাদের খরচ করতে হবে ৯৩৯ টাকা।

অন্যদিকে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম এক লাফে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১৯৯০ টাকা করা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাইরে খাওয়ার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং 'প্যানিক বুকিং' রুখতে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। আগে যেখানে ২১ দিন অন্তর সিলিন্ডার বুক করা যেত, এখন থেকে ২৫ দিনের ব্যবধানে তা করতে হবে। সরকারি সূত্রে খবর, যুদ্ধের আশঙ্কায় অনেক গ্রাহকই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই (৫৫ দিনের বদলে ১৫ দিনেই) বুকিং শুরু করেছিলেন। এই কৃত্রিম চাহিদা বা কালোবাজারি রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ।

তেল সংস্থাগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্তমান মজুত ভাণ্ডার থেকে আগে সাধারণ মানুষের বাড়ির হেঁশেলের চাহিদা মেটানো হবে। ঘরোয়া সিলিন্ডার সরবরাহে যাতে কোনো ঘাটতি না হয়, সেটাই এখন সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। এর ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ ও পাইস হোটেলগুলো সিলিন্ডার পেতে সমস্যায় পড়ছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ইতিমধ্যে অপরিহার্য পণ্য আইন প্রয়োগ করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে একটি 'কন্ট্রোল অর্ডার' জারি করে দেশের সমস্ত তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলোকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি হাইড্রোকার্বনের অন্যান্য উপাদানগুলোকেও এলপিজি পুলে ডাইভার্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় থাকে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন