সমকালীন প্রতিবেদন : আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী উৎসব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে এই উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে। পুরাণে বর্ণিত আছে, দ্বাপর যুগের অষ্টম দিনে, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে, মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ। তিনি ছিলেন বিষ্ণুর অষ্টম অবতার। জন্মাষ্টমী তাই শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং যুগে যুগে ধর্ম ও ন্যায়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক।
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরপ্রতিম অত্যাচারী রাজা কংসের শাসন থেকে মুক্তি দিতে মানব রূপে অবতীর্ণ হন শ্রীকৃষ্ণ। জন্মের পরই অলৌকিকভাবে কারাগার থেকে গোকুলে পৌঁছে যান তিনি। সেখানেই পালিত হন যশোদা ও নন্দের স্নেহে। কৃষ্ণের জীবন কাহিনি মহাভারত ও ভাগবত পুরাণে বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি ছিলেন শুধু এক দেবশিশু নন, ছিলেন এক দক্ষ রাজনীতিবিদ, সমাজসংস্কারক, প্রজাপালক ও মানবতার রক্ষাকর্তা।
জন্মাষ্টমীর দিনে মন্দির থেকে গৃহে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব পালিত হয় ভক্তিভরে। দিনভর উপবাস, সন্ধ্যায় পূজা, আর মধ্যরাতে জন্মলীলার আয়োজন করা হয়। ভক্তরা শ্লোক পাঠ, ভজন, গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে ভগবানকে আহ্বান জানান। কোথাও কোথাও দহি-হাণ্ডি খেলার প্রচলন আছে, যেখানে মাখন ও দইভর্তি কলস ভাঙার মাধ্যমে কৃষ্ণের শৈশবলীলার স্মরণ করা হয়।
শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় সম্প্রদায়ও জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন। কলকাতার ইসকন মন্দির থেকে বৃন্দাবন, মথুরা, দ্বারকা পর্যন্ত উৎসবের আবহ অনন্য। আজকের দিনে জন্মাষ্টমী শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক মিলনমেলার অন্যতম উপলক্ষ।
জন্মাষ্টমী উৎসব তাই ভক্তি, আনন্দ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির সম্মিলন। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম কাহিনি আজও মানুষকে শিক্ষা দেয়—অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকা, আর মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা। জন্মাষ্টমী কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি নয়, এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি মানবতার আলোকবর্তিকাও বটে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন