সমকালীন প্রতিবেদন : নিজেকে ছিপছিপে রাখতে খাবার খাওয়া বন্ধ করছেন না তো? সাবধান! বিপদ কিন্তু আপনার সামনেই। এগুলো না জেনে খাবার খাওয়ায় রাশ টানলে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারাতে পারেন আপনি।
উফ্ আগের থেকে একটু যেন বেশি মোটা লাগছে। এবার সব পোশাক মানাবে কিভাবে ! অমুকের বন্ধু, তমুকের বৌদি, বেস্ট ফ্রেন্ড- কারোর সঙ্গেই যে মানাবে না! খানিকটা বয়স্কই লাগবে! আর প্রিয় মানুষটির চোখেই বা আগের মতো সুন্দর, আকর্ষনীয় কি দেখাবে? এদিকে হাজারো কাজের ফাঁকে শরীরের মেদ কমানোর জন্য যে সময়টুকুর প্রয়োজন তাও তো নেই হাতে। তাহলে নিজেকে সবকিছুতে ফিট দেখাতে কি করতে হবে?
সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসটাই বরং বদলে ফেলা যাক। বেশ খানিকটা সময় না খেয়ে থাকলেই কেল্লাফতে। পেটে খাবার না গেলে তো আর মেদও জমবে না। যারা এই ধারণার বসবর্তী হয়ে উপোস রাখা শুরু করেছেন, তাদের জন্য ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা মেদ কমিয়ে নিজেকে ছিপছিপে করতে এমন শর্টকার্ট খুঁজছেন, তাদের বেশকিছুটা সময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও কাটাতে হতে পারে। কারণ শরীরচর্চা এবং উপযুক্ত ডায়েট ছাড়া মেদ ঝরানো কখনই সম্ভব নয়।
দিনের পর দিন না খেয়ে থাকলে শরীরে দেখা দিতে পারে বেশকিছু রোগ। কেমন বিপদে আপনি পড়তে পারেন রইলো তারই কিছু নমুনা। ফাঁকা পেটে গ্যাসের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে পেটে অ্যাসিড তৈরির সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়, যার জেরে অম্বল এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানব শরীর ঠিক রাখতে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যার জন্য খেতে হয় পুষ্টিকর খাবারও। তবে ওজন কমাতে খাবার বন্ধ করলেই শরীরে মিলবে না পর্যাপ্ত পুষ্টি। সৃষ্টি হবে নানান শারীরিক সমস্যা। শরীরের শক্তি কমতে পারে, দেখা দিতে পারে দুর্বলতা। পুষ্টির ঘাটতি হলে শরীরে আরও অনেক সমস্যাই দেখা দেয়। যেমন বদহজম, ক্লান্তি, মাথাধরা, গা-বমি ভাব। যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর।
উচ্চ রক্তচাপ যেমন সমস্যার কারণ, তেমনই লো প্রেশারও হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর। আর এর কারণ হতে পারে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা অত্যন্ত কমিয়ে দেওয়া। একটানা পেট খালি রাখলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে, ফলে রক্তের ঘনত্ব কমে। কমে যায় রক্তচাপও। শরীরের এই অবস্থাকে হাইপোটেনশন বলা হয়। শরীরে কখনও এমন অবস্থা দেখা দিলে মানুষ জ্ঞান পর্যন্ত হারাতে পারেন।
রোগা হওয়ার জন্য খাবার বন্ধ করলেও শরীর নিয়মমতো খাবার হজমের উৎসেচক ক্ষরণ বন্ধ করে না। ফলে পাকস্থলীতে জমতে থাকে অতিরিক্ত উৎসেচক। যার জেরে পিত্তথলিতে পাথর হতে দেখা যায়। একবার এই সমস্যা সৃষ্টি হলে তার থেকে মুক্তি মেলে না সহজে। গাদা গাদা ওষুধ তো খেতেই হয়, শরীর থেকে পাথর বের করতে প্রয়োজনে অস্ত্রপচার পর্যন্ত করাতে হয়।
তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, সত্যি যদি আপনার অতিরিক্ত মেদ নিয়ে আপনি চিন্তিত হন, তাহলে নিয়ম করে শরীরচর্চা করুন আর যতটা প্রয়োজন ততটা খাবার অবশ্যই খান। মানে ডায়েট মেনে চলুন। তবেই মেদহীন, সুস্থ এবং আকর্ষণীয় চেহারা পাওয়া সম্ভব। না হলে জিরো ফিগারের আশায় ঘটে যেতে পারে বড় বিপদ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন