Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪

সুরের মাধ্যমেই আলাদা করে চেনা যায় গ্রামের মানুষদের

 

Familiarity-with-sound

সমকালীন প্রতিবেদন : কোনো শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার নাম রাখা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। বাবা–মায়ের নামের সঙ্গে মিলিয়ে বা নিজের পছন্দ মতো নাম দেওয়া হয় শিশুদের। 

ওই নামেই সমাজে পরিচিতি পায় শিশুটি। কিন্তু ভারতে এমন একটি গ্রাম আছে, যেখানে সন্তানের জন্মের পর তার নাম রাখা হয় কোনো গানের সুরে। জানেন, ভারতের কোথায় আছে এমন গ্রাম? 

গ্রামটির নাম কংথং। মেঘালয়ের বুকে অবস্থিত এই গ্রামে পুরনো দিন থেকে আজও গানের সুরে নাম দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে। যার কারণে এই গ্রামের নাম হুইসলিং ভিলেজ। কংথং গ্রামে শিশুর জন্মের পরেই মা গান লিখতে শুরু করেন, সুর দেন। 

পরবর্তীকালে এই সুর অনুসারেই ডাকা হয় সন্তানকে। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম মনে করা হয় এটিকে। ছোট থেকে গানের সুরে নিজেদের নাম শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। 

নামের মতো প্রতিটি সুর ভিন্ন হওয়ায় তাদেরও বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়না। গানের নামের সঙ্গে আরও একটি ডাক নাম রাখা হলেও সেই নামে কখনোই ডাকা হয়না, বরং আমৃত্যু বহাল থাকে ওই সুর। 

যার কারণে এই গ্রামকে সঙ্গীতের গ্রামও বলা হয়ে থাকে। আর গান গাওয়ার এই নিয়মকে বলা হয় ‘জিংরাই আওবি’ অর্থাৎ ‘বংশের প্রথম মায়ের গান’। এই গ্রামে সর্বদাই গানের সুরে শিষ বা কিচিরমিচির শব্দ শোনা যায়। 

তবে এই ডাক কোনো পাখির নয়। বরং গ্রামের মানুষ একে অপরকে ডাকতে এই শব্দ ব্যবহার করে থাকে। এই শিষ বা সুরের ক্ষেত্রেও রয়েছে রকমফের। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের ডাকতে ব্যবহার করেন এক প্রকার শিষ। 

আবার বড়দের ডাকার ক্ষেত্রে এই শিষের পরিবর্তন হয়। গ্রামের ৭০০ বাসিন্দার জন্য রয়েছে আলাদা ধরনের আওয়াজ। গ্রামের মধ্যে বা বাড়িতে ডাকার জন্য ছোটো শিষ ব্যবহার করা হয়। 

অপরিচিত মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় লম্বা শিষ। গ্রামে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার সঙ্গে সেই সুরেরও মৃত্যু ঘটে।‌ একবার ঘুরে আসবেন না কি এই অদ্ভূত গ্রাম থেকে?







‌‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন