Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩

দুই প্রতিবেশী দেশ ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে কোন বিষয়কে ঘিরে এত বিবাদ?

Israel-and-Palestine-conflict

সমকালীন প্রতিবেদন : প্যালেস্টাইন-ইজরায়েলের মধ্যে বিবাদ বহু কালের। সম্প্রতি দু'দেশের মধ্যে নতুন করে সেই উত্তেজনা মাথা চাড়া দিয়েছে সেখানে। সেই উত্তেজনার আবহেই চলছে চরম সংঘাত। ইতিমধ্যে দুটি দেশের প্রায় ১২০০ জনের প্রাণহানীর সাক্ষী হয়ে আগুন আর বারুদের গন্ধের মধ্যে যেন সাক্ষাৎ যম হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই দেশের সীমানা। কিন্তু কেন এই সংঘাত? এর ইতিহাসই বা কি? 

সালটা ১৯৪৭। ভারতের সঙ্গেই স্বাধীনতা লাভ করে প্যালেস্টাইন। তবে সেই বছর প্যালেস্টাইনকে দুই ভাগে ভাগ করে একটি ইহুদি দেশ ও একটি আরব দেশ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাষ্ট্রপুঞ্জে। এর পর, ১৯৪৮ সালের ১৪ মে পৃথক ইজরায়েল রাষ্ট্রের গঠন হয়। 

আর তার সঙ্গেই আরব-ইজরায়েল যুদ্ধের সূচনা ঘটে। সেই যুদ্ধে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার প্যালিস্টিনিও ঘরছাড়া হন। এর পর ওই অঞ্চল তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, পৃথক রাষ্ট্র ইজরায়েল, জর্ডান নদীর তীরের ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গাজা। এবার ১৯৫৬ সাল থেকেই আগ্রাসন শুরু করে ইজরায়েল। 

সেবছর সুয়েজ খাল সঙ্কটের সময় সিনাই উপদ্বীপ আক্রমণ করে ইজরায়েল। এবার ১৯৬৭ সালে মিশর এবং সিরীয় বায়ুসেনার উপর হামলা চালায় ইজরায়েল। এই যুদ্ধের পরই সিনাই উপদ্বীপ এবং মিশরের থেকে গাজার উপর আধিপত্য কায়েম করে ইজরায়েল। 

জর্ডানের থেকে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং পূর্ব জেরুজালেম ছিনিয়ে নেয় তারা। সিরিয়ার থেকে ছিনিয়ে নেয় গোলান হাইটস। তবে এসবের দীর্ঘ ৩০ বছর পর, ১৯৭৯ সালে মিশর এবং ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটলেও প্যালেস্টাইন যেন কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকে গলায়। 

কারণ, ১৮৮৭ সালে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে এবং গাজায় বসবাসকারী হাজার হাজার প্যালেস্টাইনের নাগরিক ইজরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তবে ১৯৯৩ সালে প্রথম ওসলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গাজায় প্যালেস্তিনীয়দের স্বশাসনের দাবি স্বীকৃতি পায়। 

এরপর ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় ওসলো চুক্তিতে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের ৬ টি নগর এবং ৪৫০টি শহর থেকে ইজরায়েলকে সরে যেতে হবে বলে প্রস্তাব যুক্ত হয়।  সেই সময় ইজরায়েল তাতে সম্মত হয় বলেও জানা যায়। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, ইজরায়েল ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের দখল ছাড়েনি বলে লাগাতার অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করে। 

তার জেরে ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইজরায়েল বিরোধিতা চরম আকার ধারণ করে। এরপর মাঠে নামে আমেরিকা। তারপর থেকেই ক্রমে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২১ সালে গোলাগুলির যুদ্ধ চলে এই দুই দেশের মধ্যে। প্রাণ যায় হাজার হাজার মানুষের। 

এই বিষয়ে সম্প্রতি প্যালেস্টাইনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র গোষ্ঠী 'হামাস' বলেছে, ইজরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে নতুন অভিযানের অংশ হিসেবে রকেট ছুঁড়েছে তারা। তারা দখলদার ইজরায়েলের সব রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অবসানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এজন্যই তারা এই অপারেশন আল আকসা ফ্লাড ঘোষণা করেছে। 

তাই একথা স্পষ্ট যে এই যুদ্ধের শেষের কোনো সম্ভাবনা অপাতত নেই। হয়তো দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সুবুদ্ধির সঞ্চার ঘটলেই থামবে যুদ্ধ। আর সেটাই এখন চাইছেন অনেক নিরীহ ইজরায়েলি ও প্যালেস্টাইনি মানুষ। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন