Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

গ্রহানুর সন্ধানে বর্ধমানের তিন কলেজ পড়ুয়া, প্রশংসা নাসার

 ‌

Studying-in-three-colleges-in-Burdwan

কে কে মল্লিক : সৌরজগতের নীহারিকা তত্ত্ব অনুযায়ী প্লানেটরি অ্যাক্রেশনের পর যে উচ্ছিষ্ট ভাগ পড়ে থাকে, সেটাই ঘনীভূত হয়ে সৃষ্টি হয় আমাদের চেনা সৌরজগতের গ্রহাণু। এগুলির আকার নিউইয়র্ক শহরের সমান হতে পারে। আবার হতে পারে আমাদের হাতের তালুর মাপের। 

প্রাগৈতিহাসিক সময় এক বৃহৎ আকারের গ্রহানুর কারণেই বিলুপ্ত হয়েছিল ডাইনোসরের প্রজাতি। এখনও প্রায়শই শঙ্কা থাকে পৃথিবীর সঙ্গে কোনও গ্রহাণুর ধাক্কা লাগার। ফলে এইগুলি সম্পর্কে জানা তাদের কক্ষপথ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। ইদানিং অ্যাস্টেরয়েড মাইনিং এর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেহেতু এই মহাজাগতিক বস্তুগুলি খুব দামি ধাতু বহন করে থাকে।

এমনই দুই গ্রহানুর সন্ধান পেয়েছে বর্ধমানের গ্লোবট্রটার্স টিম। ৫ মার্চ ২০২১ থেকে ২৮ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত চলা দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্চ কোলাবরেশনে (আইএএসসি), হার্ডিন–সাইমন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই এর সহযোগিতায় প্যানারমিক সার্ভে টেলিস্কোপ এন্ড র‌্যাপিড রেসপন্স সিস্টেম (Pan STAARS) এর প্রযুক্তি যুক্ত Haleakala Observatory, হাওয়াই ,ইউ এস থেকে প্রাপ্ত ডাটা সংগ্রহ করে বর্ধমানের তিন ছাত্রছাত্রী শুদ্ধস্বত্ত্ব চৌধুরী, প্রিয়ম হালদার এবং  ঐশ্বর্য পাঁজা NASA সিটিজেন সায়েন্টিস্ট হওয়ার দরুন NASA co-operative এগ্রিমেন্ট নাম্বার 80NSSC18K0855 (for IASC) এর দৌলতে তাদের এই ডাটা প্রদান করা হয়। সঙ্গে পাঠানো হয় Astrometrica Software এর লাইসেন্স, পাসওয়ার্ড এবং স্টাডি-গাইড। 

প্রদত্ত ডেটা অ্যানালাইজ করে প্রতিটি সম্ভাব্য অবজেক্টের coordinate চেক করে তাদের ট্রাজেক্টরি আইডেন্টিফাই করার পর সেগুলির মধ্যে অবস্থিত নিয়ার-আর্থ অবজেক্টের সঙ্গে পূর্ব-নথিভূক্ত অ্যাস্টেরয়েডের সঙ্গে মেলানো হয়। 

‌(আরও পড়ুন :‌ হুংচুরা তেরেসা দ্বীপের বাসিন্দা)

মাইনর প্রজেক্ট সেন্টার (MPC) রিপোর্ট অনুযায়ী অবশেষে খোঁজ মেলে GLO0020 এবং GLO0036 যাদের কনফার্মেশন পাওয়া যায় যথাক্রমে ৫ এপ্রিল ২০২১ ও ২১ জুলাই ২০২১। IASC এর ডেটাবেসে এদের নাম হল যথাক্রমে P11dsAI এবং IUb4271। পরবর্তীকালে সেই দুটি গ্রহাণুর অ্যাস্ট্রো–স্পেকট্রোস্কোপি করা হয় বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারের ডিস্ট্রিক্ট সায়েন্স অফিসার নিখিলেশ বিশ্বাস ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক অতনু মাঝির যৌথ সহযোগিতায়। 

জানা যায়, গ্রহাণু P11dsAI হলো ০.৬ মাইল ব্যাসের একটি M- টাইপ অ্যাস্টেরয়েড, যাতে ১১০ পাউন্ডেরও বেশী প্লাটিনামের অস্তিত্ব আছে। বর্ধমানের এই টিম ইতিমধ্যে আবেদন জানিয়েছে, যেন এর নামকরণ বর্ধমান শহরের কথা মাথায় রেখে  BURDWAN 01 করা হয়। অদূর ভবিষ্যতে ইন–স্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং করা সম্ভব হবে। বর্তমান প্রযুক্তির উন্নতি দেখে অনুমান করা হচ্ছে যে, ২০৫০ এর মধ্যে হয়তো এই অ্যাস্টেরয়েড সারফেস মাইনিং অথবা শ্যাফট–মাইনিং এর দ্বারা ধাতু নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। 

গত ১০ আগস্ট IASC এর তরফ থেকে জানানো হয় যে, এই টিম আরও একটি অ্যাস্টেরয়েডের খোঁজ পায়। MPC রিপোর্টে এটি GLO0028 হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উল্লেখ্য, ঐশ্বর্য পাঁজা বর্ধমানের প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রী। প্রিয়ম হালদার বর্ধমান রাজ কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র এবং শুদ্ধস্বত্ত্ব চৌধুরী চন্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের এরোস্পেসের ছাত্র।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন