Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

উইকেটের পিছনেও যশস্বী! দ্রাবিড়ের পথেই কি এগোচ্ছেন ভারতীয় টেস্ট ওপেনার?

 ‌

Yasswi-Jaiswal

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌ব্যাট হাতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের জায়গা পাকা করেছেন যশস্বী জয়সওয়াল। এবার ক্রিকেটীয় দক্ষতার পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উইকেটকিপিংয়েও হাত পাকাতে শুরু করলেন বাঁহাতি ওপেনার। রঞ্জি ট্রফি শুরুর আগে মুম্বইয়ের অনুশীলনে গ্লাভস হাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। নিজের ইনস্টাগ্রামেও সেই অনুশীলনের ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন ২৪ বছরের এই ক্রিকেটার। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে কি প্রয়োজনে উইকেটের পিছনেও দেখা যাবে তাঁকে?

রবিবার, ১১ অক্টোবর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বই। সেই ম্যাচের প্রস্তুতিতেই নতুন ভূমিকায় দেখা গিয়েছে যশস্বীকে। জানা গিয়েছে, একটি প্রস্তুতি ম্যাচে প্রায় ১০ ওভার উইকেটকিপিং করেছেন তিনি। ফলে বিষয়টি শুধুই সাময়িক কৌতূহল নয়, বরং পরিকল্পিত অনুশীলনের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

যশস্বীর উইকেটকিপিং অনুশীলনের কথা জানিয়েছেন মুম্বইয়ের অধিনায়ক সিদ্ধেশ লাডও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুম্বই বা ভারতীয় দলের প্রয়োজনে উইকেটকিপিং করার ইচ্ছা রয়েছে যশস্বীর। তবে তিনি নিয়মিত এই দায়িত্ব নিতে চান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লাডের কথায়, নিজের খেলায় নতুন কিছু যোগ করার লক্ষ্যেই সম্ভবত এই অনুশীলন করছেন বাঁহাতি ব্যাটার।

এর আগেও ক্রিকেটের অন্য বিভাগে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন যশস্বী। লেগ-স্পিন করার অনুশীলন করেছিলেন তিনি। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত বোলিং করার সুযোগ এখনও পাননি। এবার উইকেটকিপিংয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। দলের প্রয়োজনে যাতে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে।

যশস্বীর এই উদ্যোগের সঙ্গে অনেকেই প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের ক্রিকেটজীবনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। ১৯৯৯ সালে নিয়মিত উইকেটকিপার নয়ন মোঙ্গিয়ার চোটের কারণে শারজায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়েছিলেন দ্রাবিড়। পরবর্তীতে ওয়ানডেতে অতিরিক্ত একজন ব্যাটার খেলানোর কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত কিপিং করেন। ২০০৩ বিশ্বকাপেও ভারতের উইকেটের পিছনে দায়িত্ব সামলেছিলেন দ্রাবিড়।

যশস্বীর ক্ষেত্রেও কি তেমন কোনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে? আপাতত তার উত্তর মেলেনি। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হলেও সাদা বলের দুই ফরম্যাটে তাঁর সুযোগ নিয়মিত নয়। ফলে নিজেকে আরও কার্যকর ‘ইউটিলিটি ক্রিকেটার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কি এই নতুন ভূমিকায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

মুম্বইয়ের জন্যও যশস্বীর উপস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শার্দূল ঠাকুরকে এই মরশুমে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, অজিঙ্ক রাহানে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলে মুম্বই দলের কাছে যশস্বীর অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হতে পারে। অধিনায়ক সিদ্ধেশ লাডও জানিয়েছেন, যশস্বীর অভিজ্ঞতা দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য শিক্ষার বড় সুযোগ।

তবে এখনই তাঁকে নিয়মিত উইকেটকিপার হিসেবে খেলানো হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত অনুশীলনেই গ্লাভস হাতে নিজেকে তৈরি করছেন যশস্বী। ভবিষ্যতে এই নতুন দক্ষতা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা আরও শক্ত করে কি না, সেদিকেই নজর ক্রিকেটমহলের।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন