সমকালীন প্রতিবেদন : নদিয়ার ধানতলা ধর্ষণকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর জেলে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছিল অপরাধী। কিন্তু জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এবার নিজের নাবালিকা ভাইজিকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত কমলেশ বালাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ আদালত। শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই নয়, অভিযুক্ত যাতে জীবিত অবস্থায় আর কখনও জেলের বাইরে আসতে না পারে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করে সাজা ঘোষণা করেছেন বনগাঁর এডিজে-১ আদালতের বিচারক রাজীব সাহা।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁ আদালতে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের নাবালিকা ভাইজির উপর যৌন নির্যাতন চালায় কমলেশ বালা। ঘটনার পর নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রায় ১৫ দিন বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে বনগাঁর এডিজে-১ আদালত। বিচারক রাজীব সাহা অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, অভিযুক্তের বাকি জীবন যাতে কারাগারেই কাটে, সেই মর্মে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিচারকের এই নির্দেশকে মামলাটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
এই মামলার সরকারি পক্ষের বিশেষ আইনজীবী সঞ্জয় দাস জানান, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। তাঁর বক্তব্য, বিচারক সাজা ঘোষণার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত যাতে জীবিত অবস্থায় আর কোনও দিন জেলের বাইরে বেরোতে না পারে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কমলেশ বালার বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। নদিয়ার ধানতলা ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর কারাবাসের পর সে বাড়ি ফিরেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু জেল থেকে ফেরার পর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে আলোচনায় আসে তার নাম।
পুরনো মামলায় সাজা ভোগের পরও ফের এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের কঠোর সাজা ঘোষণার ঘটনা বনগাঁ আদালত চত্বরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের এই মামলায় দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং অভিযুক্তের বাকি জীবন কারাগারে কাটানোর নির্দেশ উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছেন সরকারি পক্ষের আইনজীবী।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন