সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য চালু থাকা ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘সারথি’ করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। নতুন নামের পাশাপাশি পরিবর্তন করা হয়েছে প্রকল্পের লোগো ও সাইকেলের রংও। এবার থেকে গেরুয়া রঙের এই সাইকেলই দেওয়া হবে পড়ুয়ারা। সোমবার হাওড়ার ব্যাঁটরার একটি স্কুলে সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির সূচনা করে একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাইকেলের গুণগত মান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ছাত্রীদের ভাতা বাড়ানো, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষাক্ষেত্রে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরই রাজ্যজুড়ে নবম শ্রেণীর পড়ুয়াদের এই সাইকেল দেওয়ার কাজ শুরু হয়। বনগাঁ পুরসভার উদ্যোগে এদিন দুপুরে বনগাঁ স্টেডিয়ামে পুরসভা এলাকার বিভিন্ন স্কুলের ১২০০ পড়ুয়ার হাতে এই সাইকেল তুলে দেন বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের ১২ লক্ষ ৫৯ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারাও ‘সারথি’ প্রকল্পের সুবিধা পাবে।
নতুন সাইকেলের গুণগত মান ও নিরাপত্তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের গুণমান যাচাইয়ের জন্য ত্রিস্তরীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে বাংলাতেই সাইকেল তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য আগ্রহী সংস্থাগুলিকে জমি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে সাইকেল কেনার চুক্তিও করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিন ছাত্রীদের বার্ষিক ভাতা বাড়ানোর ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে ছাত্রীদের বার্ষিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দু’হাজার টাকা করা হবে। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৬০০টি অনুমোদিত স্কুলের পাশাপাশি আরও ২০০টি স্কুলকে যুক্ত করে মোট ৮০০টি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, পরীক্ষাগার ও খেলার মাঠের আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৮০ হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের জন্য ৩০০ কোটি টাকা কম্পোজিট গ্র্যান্ট বরাদ্দের কথাও জানান তিনি।
শিক্ষার পাশাপাশি পড়ুয়াদের পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। ইসকনের মাধ্যমে কলকাতায় ৪৪ হাজার পড়ুয়াকে দেওয়া খাবারের পরিষেবা আগামী এক মাসের মধ্যে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন সিদ্ধ ডিম দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু থাকবে। মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের মাসিক ভাতা দু’হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্কুলের পোশাকের রং ও ব্র্যান্ড নির্বাচনের দায়িত্ব স্কুলগুলির হাতেই ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজারের বেশি নিয়োগের তালিকা প্রকাশের কথাও উল্লেখ করেন। এদিন পড়ুয়াদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ভাষা, বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করেন শুভেন্দু। আরও বেশি স্কুলে এনসিসি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
.jpeg)








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন