সমকালীন প্রতিবেদন : বাগদায় নাবালিকার সন্তান প্রসবকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছে ১৬ বছরের এক কিশোরী। হাসপাতালে ভর্তির সময় ওই কিশোরীর বয়স জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপরই হাসপাতালের অভিযোগের ভিত্তিতে নাবালিকার স্বামী শোভন দাসকে গ্রেপ্তার করে বাগদা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাগদার দেয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দা ওই কিশোরী সোমবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়। ভর্তির সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, ওই গৃহবধূর বয়স মাত্র ১৬ বছর। পরে হাসপাতালেই একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে। বিষয়টি জানার পরই নাবালিকার বিয়ে এবং সন্তান প্রসবের ঘটনা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এরপর বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার (বিএমওএইচ) ডা: শুভ্রজ্যোতি মজুমদার বিষয়টি পুলিশকে জানান। হাসপাতালের তরফে অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে বাগদা থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে নাবালিকার স্বামী শোভন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ ডা: শুভ্রজ্যোতি মজুমদার জানান, নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হলে সংশ্লিষ্ট কিশোরীকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পাশাপাশি, সদ্যোজাত শিশুর ক্ষেত্রেও নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নাবালিকা বিয়ে ও তার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যা নিয়ে সরকারও যথেষ্ট সজাগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তার বয়স ১৬ বছর বলে জানতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নাবালিকার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে এবং সন্তান প্রসবের এই ঘটনা ফের একবার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এল। একই সঙ্গে কিশোরী মা ও সদ্যোজাতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন