সমকালীন প্রতিবেদন : প্রয়াত পিতা রমেশ তেণ্ডুলকরের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করলেন ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রিয় 'লিটল মাস্টার' শচীন তেণ্ডুলকর। পিতার আদর্শ ও শিক্ষাকে অমলিন রাখতে তিনি সূচনা করেছেন ‘প্রফেসর রমেশ তেন্ডুলকর মেমোরিয়াল ফেলোশিপ’। চিকিৎসা জগতের তরুণ প্রতিভাদের উৎসাহ দিতে এবং বিশেষ করে শ্রীনগরে ক্লেফট ও ক্র্যানিয়োফেসিয়াল চিকিৎসার মতো জটিল শাখায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই শচীন তেণ্ডুলকর ফাউন্ডেশনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ।
এই অভিনব ফেলোশিপ কর্মসূচির অধীনে প্রতি বছর একজন করে নির্বাচিত এমডি চিকিৎসককে শ্রীনগরে এক বছরের জন্য ক্লেফট ও ক্র্যানিয়োফেসিয়াল সংক্রান্ত আধুনিক ও বিশেষ চিকিৎসার নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তরুণ চিকিৎসকদের এই উচ্চতর শিক্ষার সমস্ত খরচ বহন করবে শচীন তেণ্ডুলকর ফাউন্ডেশন। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি শংসাপত্রও প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একশোটি শতরানের একচ্ছত্র মালিক এই ফেলোশিপের সূচনা লগ্নে আবেগঘন কণ্ঠে তাঁর জীবনে পিতার অবদান স্মরণ করেন। শচীন ব্যক্ত করেন যে, ক্রিকেট পিচে নামার বহু পূর্বেই তাঁর জীবনের আসল বুনিয়াদ গড়ে উঠেছিল নিজ গৃহে। তাঁর মতে, জীবনের সাফল্য যাত্রায় যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাঁদের প্রসঙ্গ উঠলে কোনো ক্রিকেট মাঠ বা কোচের কথা পরে আসে; সর্বাগ্রে মনে পড়ে পরিবার তথা বাবার কথা।
পেশায় অধ্যাপক, বিশিষ্ট লেখক ও কবি রমেশ তেণ্ডুলকর কেবল শচীনের জন্মদাতা ছিলেন না, ছিলেন তাঁর জীবনের প্রধান শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও পথের দিশারী। জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তিনি শচীনকে দিয়েছিলেন। তবে খেলার থেকেও জীবনের ময়দানে একজন সৎ ও ভালো মানুষ হওয়া যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, সেই শিক্ষাটি তিনি সর্বদা পুত্রের মনে গেঁথে দিতেন।
শৈশবে পিতার দেওয়া অমূল্য বার্তাটি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে শচীন বলেন, ব্যর্থতা জীবনের স্বাভাবিক অঙ্গ হতে পারে, কিন্তু অসততার কোনো স্থান সমাজে বা জীবনে নেই। ক্রিকেট মাঠে শচীনের যে প্রভূত সম্ভাবনা ছিল, তা তাঁর পিতা শৈশবেই উপলব্ধি করেছিলেন। তবুও তিনি কখনোই নিজের কোনো অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বা ইচ্ছা শচীনের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেননি।
মাস্টারব্লাস্টার জানান, তিনি অত্যন্ত সাধারণ একজন বালক ছিলেন, যার কেবল ক্রিকেট খেলার প্রতি অনুরাগ ছিল। কিন্তু তাঁর পিতা তাঁর মধ্যকার সুপ্ত প্রতিভাকে চিনতে পেরেও তাঁকে নিজস্ব পথ নিজে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ও সমর্থন যুগিয়েছিলেন। পরিশেষে শচীনের সংযোজন, একজন আদর্শ শিক্ষক বা মেন্টরের প্রধান গুণই হলো এটি– শিষ্যের নিজের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আগেই শিক্ষক তার ভেতরের সম্ভাবনাকে চিনে নিয়ে তাকে সঠিক দিশা দেখান।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন