সমকালীন প্রতিবেদন : জমি সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৈরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা গোপালনগর-২ ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি সুমিত ঘোষকে গ্রেফতার করল গোপালনগর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই থানার পুলিশ সরকারি জায়গায় বেআইনিভাবে গাছ কাটার অভিযোগে আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পরেশ চন্দ্র মৈত্রকেও গ্রেফতার করেছে। দুই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত অভিযোগে অরুণ বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি মঙ্গলবার গোপালনগর থানায় সুমিত ঘোষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ সালে সুমিত ঘোষের কাছ থেকে তিন কাঠা জমি তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি কিনেছিলেন। জমি কেনার পর সেখানে যাওয়ার সময় তাঁকে মারধর করে জায়গা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন অরুণবাবু।
অভিযোগ আরও, ওই জমিতে থাকা গাছপালাও কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত নথি, অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতেই সুমিত ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
অন্যদিকে, সরকারি জায়গায় থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী পিপুল গাছ বেআইনিভাবে কাটার অভিযোগে আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পরেশ চন্দ্র মৈত্রকে গ্রেফতার করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চামটা গ্রামের ওই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গায় থাকা গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিপুল গাছটি কাটার সময় কয়েকজন গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে পরেশ চন্দ্র মৈত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চামটা গ্রামের বাসিন্দা লক্ষণ মণ্ডল গোপালনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
দুই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ। জমির নথিপত্র থেকে শুরু করে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ– সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন