সমকালীন প্রতিবেদন : ডাকাতি হওয়া অলঙ্কার ১১ বছর ধরে ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে এক সোনা বন্ধকী সংস্থায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন চরম হতাশায় ভোগা কাস্টমাররা। ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ শহরের একটি নামী সোনা বন্ধকী ঋণদানকারী সংস্থার শাখায়। গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, আদালত নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও দিনের পর দিন চক্কর কেটেও নিজেদের সম্পত্তি ফেরত পাচ্ছেন না তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সংস্থার কর্মচারীদের বাইরে বের করে দিয়ে কার্যালয়ের দরজায় নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালে। সেই বছর ওই ঋণদানকারী সংস্থার বনগাঁ শাখা থেকে বিশাল অংকের সোনা ডাকাতি হয়। পরবর্তীতে পুলিশের তৎপরতায় লুট হওয়া সোনা উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ফেরত দেয় পুলিশ। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ লক্ষ টাকার বন্ডের বিনিময়ে প্রকৃত গ্রাহকদের গচ্ছিত গয়না অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
আইনি পথ সুগম হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর ধরে বঞ্চনার অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ডাকাতি হওয়া সোনার একটি অংশ কিছু গ্রাহককে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, একটি বড় অংশের কাস্টমার এখনও খালি হাতে ফিরছেন। ১১ বছর পার হতে চললেও সোনা ফেরত পাননি তাঁরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, ফেরত চাইতে এলে প্রতিবারই একই অজুহাত দেয় শাখা কর্তৃপক্ষ– "হেড অফিসে খবর পাঠানো হয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যেই চলে আসবে।"
কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ক্ষোভে ফেটে পড়ে এক গ্রাহক জানান, আদালতের নির্দেশের পরও কেন এত বছর ধরে তাঁদের সম্পত্তি আটকে রাখা হচ্ছে, তার কোনো সদুত্তর সংস্থার পরিচালকদের কাছে নেই। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে তাঁরা অফিসে নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গোলমালের স্থায়ী সমাধান ও গয়না হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই তালা খোলা হবে না।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার সুভাষ মন্ডল স্বীকার করে নেন যে সমস্যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। তিনি দাবি করেন, ২০১৫ সালের সেই ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনার পর বড়সংখ্যক গ্রাহকের সোনা ইতিমধ্যে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু কাস্টমারের সোনা দেওয়া এখনও বাকি রয়েছে। হেড অফিস থেকে কোনো সবুজ সংকেত না আসাতেই তাঁরা বিষয়টি আটকে রেখেছেন বলে তাঁর দাবি। তিনি জানান, গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে এসে আজ কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে দেন এবং দরজায় নিজস্ব তালা লাগিয়ে দেন।
আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমজনতার কষ্টার্জিত সম্পত্তি আটকে থাকা নিয়ে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়। এখন দেখার, এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রশমনে সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহন করে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন