Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

হাইওয়েতে নিষিদ্ধ টোটো: দুর্ঘটনা ও যানজট রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

 

Toto-banned-on-highways

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং প্রধান রাস্তাগুলিতে টোটো ও ই-রিকশা চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য সরকার।  শুক্রবার পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব রবীন্দ্র সিং–এর নির্দেশিকা জারি করার পর রবিবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং গতিশীল যান চলাচল বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ।

গ্রাম ও মফস্‌সল এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠলেও, টোটোর বেপরোয়া চলাচল এবং সঠিক নিয়মনীতির অভাব বেশ কিছুদিন ধরেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বেশি যাত্রীর আশায় ধীরগতির এই যানগুলি ব্যস্ত জাতীয় ও রাজ্য সড়কে উঠে পড়ায় প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।

২০১৪ সালের কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা এবং ২০১৬ সালের রাজ্য সরকারের মেমো স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেলায় জেলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে ১৯৮৮ সালের মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা, বিধাননগর, চন্দননগর, আসানসোল ও শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট-সহ সমস্ত জেলার পুলিশ প্রশাসন, আরটিও এবং এআরটিও-দের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, টোটো কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানীয় বা ভেতরের রাস্তাতেই চলাচল করতে পারবে।

আজ, রবিবার কলকাতা পুলিশের ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং টোটোর এই অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ও রুট ভাঙা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশ ট্রেনিং স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দসহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

টোটো নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, "দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য ছিল যেখানে বিগত সরকারের আমলে পুরসভা বা স্থানীয় পার্টি অফিস থেকে টোটোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হতো, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। অটোর অন্তত নথিপত্র থাকে, কিন্তু টোটোর কোনো নির্দিষ্ট কাগজপত্র নেই। দুর্ঘটনা এড়াতেই এদের হাইওয়ে ও প্রধান রাস্তা থেকে সরানোর কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

সড়ক সুরক্ষার জন্য সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও জানান, কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সচেতনতা না এলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। এতে অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন