সমকালীন প্রতিবেদন : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপ এবং ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের বরফ কি তবে গলতে চলেছে? ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নির্ধারিত থাকা বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর, ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে পদ্মাপারে সিরিজ আয়োজন নিয়ে ফের আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে সুযোগ না দেওয়া, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার রদবদল– ইত্যাদি নানা কারণে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সখ্যতায় ভাটা পড়েছিল। বিশেষ করে মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের বাংলাদেশ সফর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
তবে তারেক রহমানের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চিত্রপট বদলাতে শুরু করেছে। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে বিসিবি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভারতকে আতিথেয়তা জানাতে ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের একটি উইন্ডো খালি রেখে বিসিসিআই-কে প্রস্তাবিত সূচি পাঠিয়েছে। এই খসড়া অনুযায়ী ভারতীয় দলের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। ১, ৩ এবং ৬ সেপ্টেম্বর তিনটি ওডিআই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে পারে। ৯, ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, "ভারত সফরের ব্যাপারে আমরা বিসিসিআই-কে ইমেইল পাঠিয়েছি এবং আশা করছি তারা খেলতে আসবে। বাংলাদেশে এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ রয়েছে। ভারত এলে অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি হয়।" বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিজস্ব ঝুঁকিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি নয়।
বোর্ডের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, বিসিবি-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিদেশ মন্ত্রক তথা ভারত সরকারের কাছে সরকারি নির্দেশিকা চাওয়া হচ্ছে। বোর্ডের এক সূত্রে জানানো হয়েছে, বিসিসিআই খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই সফরের অনুমতির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাবে। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই কেবল সফরটি বাস্তবায়িত হবে।
যদি কোনো কারণে ভারত সরকার বাংলাদেশ সফরের অনুমোদন না দেয়, তবে বিসিসিআই বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখছে। সে ক্ষেত্রে এই নির্ধারিত সময়েই দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করা হতে পারে। তবে বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত হলে আফগানিস্তান সিরিজটি পিছিয়ে দেওয়া হবে। সর্বশেষ ২০২২ সালে ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিল। দীর্ঘ ব্যবধানের পর প্রতিবেশী দুই দেশের এই ক্রিকেট দ্বৈরথ পুনরায় শুরু হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন