Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

থানা হেফাজতে যুবকের মৃত্যু: আইসি-কে ক্লোজ, নিহতের পরিবারকে চাকরি ও অর্থসাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

 

Financial-assistance

সমকালীন প্রতিবেদন : উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে থানা হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার সকালে সরাসরি নিহতের বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

সোমবার সকালে হালিশহরে মৃত যুবকের বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার এবং নোয়াপাড়ার বিধায়ক ও মন্ত্রী অর্জুন সিং, মন্ত্রী সুমনা সরকার, জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং নৈহাটির বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী নিহতের বাসভবনে গিয়ে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেন।

নিহতের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, থানা হেফাজতে এই মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই পুলিশ এড়াতে পারে না। তিনি মন্তব্য করেন, "থানার লকআপে বা হেফাজতে যে মৃত্যু হয়েছে, তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কাস্টডিতে মৃত্যু হওয়ায় পুলিশের গাফিলতি সুনির্দিষ্ট।"

ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে হালিশহর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আইসি-কে ক্লোজ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিক-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার পরই শারীরিক অত্যাচারের মাত্রা পরিষ্কার হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নিহত বিরজু কেওটের স্ত্রী জেনি শর্মার ভবিষ্যতের নিরাপত্তায় বেশ কিছু সামাজিক সাহায্য নিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ নিহতের দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় নিহতের স্ত্রীকে ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ মাস ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করার পর তাঁকে স্থায়ীভাবে ‘গ্রুপ-ডি’ পদে উন্নীত করা হবে।

সাধারণত এই ধরনের কাস্টোডিয়াল ডেথের ঘটনায় মহকুমা শাসক পর্যায়ের তদন্ত হলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বয়ং উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক-কে ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ইনকোয়ারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সমগ্র তদন্তপ্রক্রিয়াটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্র সচিব।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, পুলিশি মারধরের কারণেই বিরজুর মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শোকে নিমজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও নিহতের পরিবার ঘটনাটি নিয়ে কোনো প্রকার রাজনীতির সুযোগ তৈরি হতে দেয়নি। তারা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। এছাড়া, রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট স্থানীয় জনবিক্ষোভ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেই ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্রের অবকাশ নেই এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তার প্রোটোকল মেনে যাতায়াত করা উচিত।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন