সমকালীন প্রতিবেদন : আগামী আইপিএল মরশুমের দলবদল এবং ‘প্লেয়ার ট্রেডিং’ ঘিরে উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। গত কয়েক মরশুমে খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায়, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাঁকে ধরে রাখবে কি না তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অন্তত তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে সই করাতে কোমর বেঁধে নেমেছে বলে গুঞ্জন ছড়ায়, যার মধ্যে বেশ খানিকটা এগিয়ে ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।
তবে সম্প্রতি মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষের একটি রহস্যময় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সেই জল্পনার মোড় একঝটকায় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাদের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে হার্দিকের বল ও ব্যাট হাতে অনুশীলনের একাধিক ছবি পোস্ট করে। সেখানে ‘যোদ্ধারূপে হার্দিক’ লেখার পাশাপাশি ক্যাপশনে যোগ করা হয় ‘HP O’clock’। যার অর্থ, এটি হার্দিকেরই সময়।
সমর্থকদের একাংশের মতে, এই পোস্টের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে আগামী মরশুমেও পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা হার্দিককে মূল চালিকাশক্তি করেই পথ চলতে চায়। অন্যদিকে, অনেকের মতে এটি কেবলই প্লেয়ারকে ঘিরে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রচার থামানোর কৌশল বা একটি সুচতুর বিদায়বার্তা।
হার্দিকের দলবদল নিয়ে জলঘোলা অবশ্য হুট করে শুরু হয়নি। গত মরশুমের শেষভাগে রহস্যজনকভাবে কয়েকটি ম্যাচে তাঁর না থাকা এবং দলের মহাতারকাদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। সূত্রের খবর, নাইট শিবিরে আজিঙ্ক রাহানের স্থলাভিষিক্ত করে হার্দিককে অধিনায়ক করার পরিকল্পনা নিয়ে কেকেআর ও মুম্বই ম্যানেজমেন্টের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনাও হয়েছিল। একইসঙ্গে গুজরাট টাইটান্সে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, তিনি নেতৃত্ব দাবি করায় সেই আলোচনা এগোয়নি বলে জানা যায়।
হার্দিক ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ২০১৫ সালে এই দলের হয়েই আইপিএলে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি এবং ২০২২ পর্যন্ত টানা খেলেন। এরপর গুজরাট টাইটান্সে যোগ দিয়ে প্রথম বছরেই দলকে ট্রফি এনে দেন। ২০২৪ মরশুমে তিনি পুনরায় রোহিত শর্মার স্থলাভিষিক্ত হয়ে মুম্বইয়ের অধিনায়ক হিসেবে ফেরেন। কিন্তু দলগত পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় তাঁর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়।
এদিকে, আইপিএলের প্লেয়ার ট্রেডিংয়ে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে নিজের কলামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কর। তিনি লিখেছেন, দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বিসিসিআইয়ের আড়ালে হওয়া এই লেনদেনের আর্থিক মূল্য বাকি দলগুলিরও জানা উচিত, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকে।
সব মিলিয়ে, অনুশীলনের ছবি এবং ‘HP O’clock’ পোস্টের পর হার্দিক কি সত্যিই মুম্বইয়ের জার্সিতেই থেকে যাচ্ছেন, নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো নাটকের চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের কৌতুহল এখন তুঙ্গে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন