সমকালীন প্রতিবেদন : শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জীবনকে সহজ ও স্বাভাবিক করতে এক অসামান্য প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে দিল্লির ১৫ বছর বয়সী কিশোর পরস টিক্কু। বর্তমানে দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী তৈরি করেছে ‘হিয়ার ব্রাইট’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি বিশেষ স্মার্ট চশমা। চশমাটি মূলত কম শুনতে পাওয়া বা শ্রবণক্ষমতাহীন মানুষদের দৈনন্দিন যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সাবটাইটেল হিসেবে কাজ করবে।
চতুর্থ শ্রেণি থেকে কোডিং শেখা পরসের দীর্ঘদিনের কাজের ফসল এই স্মার্ট চশমা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার ভিশন এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। চশমায় যুক্ত করা মাইক্রোফোন চারপাশের কথাবার্তা গ্রহণ করে সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে লেখায় রূপান্তরিত করবে, যা পরিধানকারীর চোখের সামনে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
সাধারণ কথোপকথনের পাশাপাশি ভারতীয় সাংকেতিক ভাষা ও হাত নাড়ানোর ভিন্ন ভিন্ন ইশারা চিনে নিয়ে সেটিকে কথ্য শব্দে পরিণত করার প্রযুক্তি এতে যোগ করা হচ্ছে। কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি, অ্যালার্ম বা গাড়ির সাইরেনের শব্দ চিনে নিয়ে এটি ব্যবহারকারীকে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টিগোচর সতর্কবার্তা দেবে। থ্রি-ডি প্রিন্টেড ফ্রেমে তৈরি এই চশমায় ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, স্পিকার, মাইক্রোকন্ট্রোলার, মিডিয়াপাইপ ও টেনসরফ্লো জেএস-এর মতো আধুনিক সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
শহরের ‘সারাংশ’ নামে এক শিশুর যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতার গল্প পরসকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। সে উপলব্ধি করে, প্রযুক্তির কাজ শুধু ঘরোয়া বিনোদন নয়, মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধান করা। ইলন মাস্কের নতুন কিছু তৈরির চিন্তাভাবনাকে আদর্শ মেনে চলা পরস ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের থেকে মতামত নিয়ে চশমাটির পরিমার্জন চালাচ্ছে।
তবে বাস্তব ক্ষেত্রে চশমাটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন আলো ও কোণে হাতের সঠিক ইশারা চেনা। এই জটিলতা কাটাতে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলটিকে নিখুঁত করতে পরস নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই যন্ত্রটিকে আরও হালকা, তারবিহীন ও বহুভাষী করে তোলার ইচ্ছা রয়েছে তার।
"প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কারও জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে"– এই দর্শনে বিশ্বাসী পরসের স্বপ্ন ভারতের খ্যাতনামা আইআইটি থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। ভবিষ্যতে নিজের উদ্ভাবিত ‘হিয়ার ব্রাইট’-কে বাণিজ্যিক ও বহুল ব্যবহারের উপযোগী করে শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষের জীবনে শব্দের অপূর্ণতা মিটিয়ে যোগাযোগের নতুন সেতু তৈরি করতে চায় এই তরুণ উদ্ভাবক।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন