Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

বিপর্যয় মোকাবিলায় আধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’ গঠনের সিদ্ধান্ত রাজ্য প্রশাসনের

 

Arjun-Bahini

সমকালীন প্রতিবেদন : তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর রাজ্যের সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামোকে নতুন করে সাজাতে এবং আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। রবিবার গার্ডেনরিচ থেকে আয়োজিত এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের ঘোষণা ‌করেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর আদলে তৈরি এই নতুন বাহিনীর নামকরণ করা হয়েছে ‘অর্জুন বাহিনী’। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমানের যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত এই বাহিনী মূলত রাজ্যে যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় সামাল দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সরাসরি অগ্নিবীরদের পেতে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগবে। তাই বর্তমানে আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে আর্মি সার্ভিসেস বা সৈনিক বোর্ড থেকে দক্ষতা সম্পন্ন ২০০ জন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যকে নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই অর্জুন বাহিনী কাজ শুরু করবে। এই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন দার্জিলিংয়ে এবং বাকি ৫০ জন কাকদ্বীপ ও সাগর অঞ্চলে মোতায়েন থাকবেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অগ্নিবীরদের বড় ভূমিকা রাখা হচ্ছে। অর্জুন বাহিনীতে ২০ শতাংশ আসন অগ্নিবীরদের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। শুধু দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীতেই নয়, পাশাপাশি পুলিশ, ফরেস্ট ও ফায়ার ব্রিগেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বিভাগগুলোতেও অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণের ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন এই বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় বিল্ডিং, ক্যাম্পাসের স্থান আগেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ভেঙে পড়া ভবন থেকে উদ্ধারকাজ চালানো থেকে শুরু করে যেকোনো দুর্যোগে গতি আনতে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এই বাহিনীর সদস্যরা রাজ্যজুড়ে পুরোদমে কাজ শুরু করবেন।

কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অতীতের কিছু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে আমফানের সময় শহরে গাছ উপড়ে পড়ার পর উদ্ধারকাজে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেই সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা থেকে বিশেষ উদ্ধারকারী দল আনতে হয়েছিল, কারণ পূর্বতন সরকারের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগের অভাব ছিল এবং কেন্দ্র থেকে আসা বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।

প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ রাজ্যকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি আত্মনির্ভর করে তুলবে এবং স্কিলড ও আনস্কিলড– উভয় ক্ষেত্রে কাজের নতুন সুযোগ ও নিরাপত্তা তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন