Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড: ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে সাক্ষ্য দিলেন ৯২ বছরের বৃদ্ধ পিতা

 

Barun-Biswas-Case

সমকালীন প্রতিবেদন : গাইঘাটা সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের খুনের মামলায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো সোমবার। বনগাঁর ফাস্টট্র্যাক কোর্ট-১-এ অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জজ দুর্গাশঙ্কর রানার এজলাসে ৩৮ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিলেন বরুণের ৯২ বছর বয়সী বাবা জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস। এই সাক্ষ্যগ্রহণকে ঘিরে মামলার ইতিহাসে একটি নতুন মোড় দেখা গেল। প্রথমবারের মতো আদালতের কাঠগড়ায় একজন প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নাম উচ্চারিত হলো। বরুণের বাবা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

সাক্ষ্যদানকালে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া পিতা বিচারকের কাছে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তিনি জানান, রাজ্যের প্রাক্তন প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ষড়যন্ত্রেই তাঁর পুত্রকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে তিনি এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরেছেন বলে এজলাসে দাবি করেন। 

ইতিপূর্বে পুলিশ বা অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে এই নামটি উঠে না এলেও, আদালতের নথিতে এই প্রথমবার কোনও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার নাম সরাসরি যুক্ত হলো। বয়সের চরম সীমায় দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ পিতা বিচারকের কাছে আকুল আবেদন জানান, মূল ষড়যন্ত্রকারী সহ এই ঘটনায় যুক্ত প্রতিটি অপরাধীকে যেন আইনানুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই দুষ্কৃতীদের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হন অপরাধ ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। ঘটনার পর তাঁর দাদার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। চার্জশিটে মোট ৭৬ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ৩৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের মধ্যে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যে সরাসরি গুলি চালিয়েছিল, তার বিচার সম্পূর্ণ হয় জুভেনাইল কোর্টে এবং সে সাজাপ্রাপ্ত হয়। বাকিদের মধ্যে এক অভিযুক্তের ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে ৬ জন বিচারাধীন অবস্থায় কারারুদ্ধ।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার গতি বাড়াতে সম্প্রতি নিহত শিক্ষকের পরিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছিল। পরবর্তীতে পরিবারের আবেদনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলা পরিচালনার জন্য নতুন বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।

আদালতের এই সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিশেষ সরকারি আইনজীবী দেববরঞ্জন ব্যানার্জি জানান, বরুণ বিশ্বাসের পিতা আদালতের সামনে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, নতুন গতিতে বিচার প্রক্রিয়া চলায় দ্রুত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী নির্মাল্য সাহা জানান, বৃদ্ধ পিতার সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে তদন্তকারী সংস্থার কাছে যার নাম কখনও আসেনি, বিচারকের সামনে প্রথমবার তেমন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উত্থাপিত হয়েছে। তাঁরাও আইনি কাঠামোর ওপর আস্থা রেখে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাবার বার্ধক্যজনিত শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই তাঁরা দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালতের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁরা আশা ব্যক্ত করেন যে, দীর্ঘ এক যুগের লড়াইয়ের পর অবশেষে সুটিয়ার শহীদ শিক্ষকের আত্মা ন্যায়বিচার পাবে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন