সমকালীন প্রতিবেদন : এক পাকিস্তানি জঙ্গির বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার খবর চাউর হতেই সীমান্তবর্তী এই শহরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক দুষ্কৃতী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোড়ালো করতেই সাফল্য পেল বনগাঁ থানার পুলিশ। বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত এক আন্তঃদেশীয় অস্ত্র কারবারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাজিতলা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল মন্ডল এবং ফুলতলা কলম এলাকার বাসিন্দা অনুপ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং দু’টি তাজা ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতেরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার কারবারে যুক্ত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, শহিদুল বেআইনি পথে বাইরে থেকে অস্ত্র এনে নিজের গোপন ডেরায় মজুত করত। আর সেই অস্ত্র অনুপ খান বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক অপরাধীর হাতে পৌঁছে দিত। সম্প্রতি এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছিল অনুপ।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনুপদের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় একটি দোকান রয়েছে। অনুপের বাবা তাপস খান ওই দোকানের আড়ালে মাদক কারবারসহ নানা অসাধু কার্যকলাপ চালানোর অপরাধে আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সেই দোকানে বসেই চলত অস্ত্র পাচারের ডিল। দু’দেশের দুষ্কৃতীদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ। অ্যাপেই মিলত অস্ত্রের ছবি, চলত দরদাম। অর্থ আসত বিভিন্ন ব্যবসায়ী কিংবা যাত্রীদের মাধ্যমে। টাকা হাতবদল হওয়ার পর সীমান্তে ঘাপটি মেরে থাকা চক্রের সদস্যরা বিএসএফের চোখ এড়িয়ে ওপারে অস্ত্র পৌঁছে দিত।
বৃহস্পতিবার ধৃত দুই অস্ত্র কারবারিকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে আগেই একাধিক মামলা রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্রে আর কে কে যুক্ত রয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের শেকড় কত দূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করতে মরিয়া বনগাঁ থানার পুলিশ।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন