সমকালীন প্রতিবেদন : রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার কারণে নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আফগান বোর্ডের আর্জিতে সাড়া দিয়ে ভারতকে তাঁদের 'হোম' বা আয়োজক দেশ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে উভয় বোর্ডই সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময়সূচি প্রকাশ্যে এনেছে। কিন্তু এই সূচি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেছে ভারতের বহু প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ সফর নিয়ে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে (আগের ফিরোজ শাহ কোটলা) ভারতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ২০২৬ সালের জন্য দুই দেশের নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সূচির অংশ হিসেবেই এই টি-টোয়েন্টি লড়াই আয়োজিত হতে চলেছে। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসেই আফগানদের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ও একটি একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ সফলভাবে খেলেছে ভারত। বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাস আফগানিস্তানের ক্রিকেট পরিকাঠামো ও মান উন্নয়নে ভারতের সার্বিক সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আগামী দিনেও আফগানদের পাশে থাকবে বিসিসিআই।
তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিশ্চিত হওয়া এই সিরিজের সঙ্গেই তৈরি হয়েছে তীব্র ক্রিকেট-কূটনৈতিক টানাপোড়েন। কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রস্তাবিত খসড়া সূচি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে ছয়টি সীমিত ওভারের ম্যাচ (একদিনের ও টি-টোয়েন্টি) খেলার কথা ছিল। মুশকিল বেঁধেছে ১৩ সেপ্টেম্বরের তারিখটি নিয়ে, যেখানে দুটি বোর্ডের সূচিই পরস্পরের ওপর একেবার সমাপতিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশে ড. ইউনুস সরকারের আমলে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। ইউনুস পরবর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পদ্মাপারের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হলেও তা কার্যকর রূপ নেয়নি। গত মরশুমে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, যার জেরে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল বাংলাদেশ দল।
বাংলাদেশ যদি এখনও ভারতের সঙ্গে সাদা বলের ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনে আগ্রহী হয়, তবে বিসিসিআই এবং বিসিবিকে যৌথভাবে নতুন একটি আন্তর্জাতিক সময়সীমা বা ‘উইন্ডো’ খুঁজে নিতে হবে। মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও এই সফর ঘিরে কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে বিশেষ কোনো নির্দেশিকা না এলে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের পা রাখার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। সার্বিক পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বাংলাদেশ সফর ভেস্তে যাওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন