সমকালীন প্রতিবেদন : বিশ্ব ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয়, প্রতিযোগিতামূলক এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল করে তুলতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বড়সড় রদবদলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) খোলনলচে বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আইসিসির নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই সাদা বলের এই ফরম্যাটে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশ্বকাপে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে। তবে প্রতিযোগিতার মান বাড়াতে মূল পর্ব থেকে দল সংখ্যা ১৪ থেকে কমিয়ে ১২ করার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন নিয়মে সেমিফাইনালের আগে তিনটি পর্যায় থাকবে। প্রথম পর্যায়ে, র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা তিনটি দলকে নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে ‘সুপার সিরিজ’ হবে, যার শীর্ষ দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে মোট ৩০টি ম্যাচ খেলা হবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে দল এবং সামগ্রিকভাবে আরও একটি সেরা দল মিলে মোট ৭টি দল পৌঁছাবে তৃতীয় রাউন্ড বা ‘সুপার সেভেন’ পর্বে। সেখানে রাউন্ড রবিন লিগে ২১টি ম্যাচ হওয়ার পর শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে লড়বে।
তবে ওয়ানডে ম্যাচের ওভার সংখ্যা ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ করার যে জল্পনা চলছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আর সুপার লিগ থাকছে না, যা সহযোগী দেশগুলোর জন্য কিছুটা ধাক্কা। ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আসছে বড় বদল। ২০টি দলকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে পাঁচটি করে দল নিয়ে চারটি গ্রুপ করা হবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল পরবর্তী 'সুপার টেন' পর্বে উঠবে।
সুপার টেন পর্বে পাঁচটি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপ করা হবে এবং দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি সেমিফাইনালে যাবে। বাকি দুটি সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণ হবে এলিমিনেটর রাউন্ডের মাধ্যমে, যেখানে এক গ্রুপের দ্বিতীয় দল অন্য গ্রুপের তৃতীয় দলের মুখোমুখি হবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রস্তাবটি হলো ফুটবলের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে ক্রিকেটেও একটি বিশ্ব ক্লাব কাপ বা ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার আয়োজন। আগামী দুই বছরের মধ্যে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে ফাঁকা সময় বের করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা দলগুলোকে নিয়ে এই টুর্নামেন্ট করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ৯টি দলকে নিয়ে হওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরিধি বাড়িয়ে ১২ দল করার পরিকল্পনা চলছে, যেখানে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়েকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। লিগ তালিকার মাঝামাঝি থাকা দলগুলোর উৎসাহ বজায় রাখতে এখন আর সরাসরি ফাইনাল নয়, বরং সেমিফাইনাল জুড়তে চলেছে এই ফরম্যাটে।
এছাড়া, ২০২৭-৩১ ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) শেষ হওয়ার পর সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে। তার বদলে চার দেশীয় আন্তঃমহাদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বলা হয়েছে, যার ফলে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটের মান বাড়াতে ভারতের জয় শাহরা চাইছেন, পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ‘এ’ বা দ্বিতীয় দল যেন অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও বেশি ম্যাচ খেলে। আপাতত এই সমস্ত প্রস্তাব কেবল পুরুষদের ক্রিকেটের জন্যই বিবেচনা করা হচ্ছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন