সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ ব্লকে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা সচল রাখার স্বার্থে অবশেষে নিজেদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানেরা। শুক্রবার বনগাঁ বিডিও অফিসে আয়োজিত একটি সমন্বয় বৈঠকের পর এই জট কাটে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন বনগাঁর বিডিও অফিসে গিয়ে আকস্মিকভাবে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন ছয়ঘড়িয়া, গঙ্গানন্দপুর, আকাইপুর, ধর্মাপুকুরিয়া, গোপালনগর-১ এবং গোপালনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানেরা। এর জেরে স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক কাজকর্ম লাটে ওঠার উপক্রম হয়, যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
শুক্রবার বনগাঁর বিডিও-র উপস্থিতিতে ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত প্রধান এবং বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার প্রতিনিধি সৌমিত্র দাস এবং বাগদা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়িকা সোমা ঠাকুরের প্রতিনিধি সাগর শিকদার। দীর্ঘ আলোচনার পর পঞ্চায়েত প্রধানেরা গ্রামবাসীদের স্বার্থে ইস্তফা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রধানদের পক্ষে গোপালনগর-২ এর প্রধান ঊষা কান্তি পাল, গোপালনগর-১ এর প্রধান মুক্তি হালদার এবং ছয়ঘড়িয়ার প্রধান সবিতা সরকার মন্ডল জানান, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রামীণ এলাকার মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা ও থমকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত চালু করতেই তাঁরা কাজে ফিরছেন। মানুষের স্বার্থে তাঁরা ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার প্রতিনিধি সৌমিত্র দাস ও বিধায়িকা সোমা ঠাকুরের প্রতিনিধি সাগর শিকদারেরা জানান, সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক সময়ে পঞ্চায়েতের সমস্ত সরকারি পরিষেবা পান এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই তাঁরা এই সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। প্রধানদের কাজে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা।
এই গঠানমূলক সিদ্ধান্তের ফলে বনগাঁ ব্লকের ওই ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতে পুনরায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ফিরে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছে ব্লক প্রশাসন। স্থানীয় স্তরে যুযুধান রাজনৈতিক পক্ষগুলির মধ্যে এই ধরনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের ঘটনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং স্বাস্থ্যকর গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যৌথ প্রচেষ্টায় আগামী দিনে গ্রামীণ উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন