সমকালীন প্রতিবেদন : কালবৈশাখী বা বড় কোনো ঝড়-বৃষ্টি ছিল না, তা সত্ত্বেও চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে যশোর রোডের ওপর ভেঙে পড়ল দুটি বিশালাকার গাছের ডাল। ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁর ছয়ঘড়িয়া এলাকায়। পরপর এই দুটি দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তার, যার জেরে শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার মধ্যরাতে। ছয়ঘড়িয়া রাখাল দাস হাইস্কুলের সামনে আচমকাই যশোর রোডের ওপর একটি প্রাচীন গাছের মোটা ডাল ভেঙে পড়ে। মাঝরাত হওয়ায় রাস্তায় যানচলাচল কম ছিল, যার ফলে বড়সড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
তবে বিপত্তির এখানেই শেষ নয়। শনিবার সকালে ঠিক একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে সামান্য দূরে, ছয়ঘড়িয়া ঠাকুর হরিদাস স্কুলের সামনে। সেখানেও রাস্তার ওপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে আরও একটি গাছের ডাল। পরপর দুটি ঘটনায় স্বভাবতই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
রাতের ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাইভোল্টেজ তারের ওপর ডালগুলি পড়ায় খুঁটি ও তারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে ব্যস্ততম যশোর রোডের ওপর ডাল পড়ে থাকায় যানচলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে গাছের ডালগুলি কেটে সরানোর কাজ শুরু হয়।
বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাছ পড়ার কারণে লাইনের বেশ কিছু জায়গায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, যশোর রোডের বাকি বিপজ্জনক ডালগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি ছাঁটাইয়ের ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন