সমকালীন প্রতিবেদন : লাল বলের পর এবার সাদা বলের ক্রিকেটেও ভারতের লজ্জাজনক ভরাডুবি। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কাছে পরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরাস্ত হওয়ার পর এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কড়া আতশকাচের তলায় হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের পারফরম্যান্স। একের পর এক লজ্জার নজির গড়ায় উদ্বিগ্ন বোর্ড কর্তারা গম্ভীরের ভূমিকা পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লাগাতার এই ব্যর্থতার জেরে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও, টিম ইন্ডিয়ার হটসিটে গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
টিম ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান রীতিমতো গ্রাফ নিচের দিকে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত বর্তমানে পরপর ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়হীন। আয়ারল্যান্ডের মতো দুর্বল দলের বিরুদ্ধে প্রথমবার সিরিজ হেরে হোয়াইট ওয়াশ (০-২) হতে হয়েছে ভারতকে। সেই ধাক্কা সামলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও, শ্রেয়স আয়ারের নেতৃত্বাধীন দল আরও বড় লজ্জা উপহার দিয়েছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে পর পর ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হেরেছে ভারত। মাঝের একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে না গেলে হয়তো আরও বড় লজ্জার মুখে পড়তে হতো। এই প্রথম ইংল্যান্ডের কাছে কোনও টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ভারত দু’টির বেশি ম্যাচ হারল, যা ২০১৯ সালের পর ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সিরিজ পরাজয়।
বিসিসিআই সূত্রে খবর, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের এই ঐতিহাসিক ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে একটি বিশেষ ‘ময়নাতদন্ত’ বা রিভিউ মিটিং ডাকছে বোর্ড। সেখানে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফদের পারফরম্যান্সও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। জানা যাচ্ছে, ব্যর্থতার কারণ হিসেবে গম্ভীর যে বারবার ‘দলে পরিবর্তন’ বা নতুন দল গঠনের তত্ত্ব দিচ্ছেন, তা মানতে নারাজ বোর্ড কর্তারা। কর্তাদের মতে, এই যুক্তি আসলে ব্যর্থতা ঢাকার অজুহাত মাত্র। এই সিরিজের পর গম্ভীরের প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিচিত একাধিক তারকা ক্রিকেটারকে দল থেকে ছাঁটাই করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বোর্ডের এক শীর্ষ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘এখনই কোচ পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে না ঠিকই, তবে বারবার এই ব্যর্থতাও মেনে নেওয়া যায় না।’’ যদিও তিনি দলের বর্তমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে কিছুটা নরম সুরে বলেন, ‘‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দলের সঙ্গে এই দলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। হার্দিক পাণ্ড্য, জসপ্রীত বুমরাহ নেই। ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী, প্রিন্স যাদবের মতো নতুন ক্রিকেটাররা খেলছে। হর্ষিত রানা চোট সারিয়ে ফিরেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফলাফল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, তবু আমরা বাস্তবকে অস্বীকার করছি না।’’
বোর্ড কর্তারা দলের পরিবর্তন পদ্ধতির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হলেও, আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হারের কারণ হিসেবে গম্ভীরের কাছ থেকে কড়া ব্যাখ্যা তলব করতে পারেন। পাশাপাশি শ্রেয়স আয়ারের অধিনায়ক হিসেবে জঘন্য শুরু এবং তিলক বর্মা বা অভিষেক শর্মাদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতার অভাব নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে হেড কোচকে।
আপাতত আগামী জিম্বাবোয়ে সিরিজ এবং এশিয়ান গেমসের দলের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে পাঠানো হচ্ছে ভিভিএস লক্ষ্মণকে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজে আবারও দলের দায়িত্ব নেবেন গম্ভীর। তবে তার আগেই বোর্ডের এই হাই-ভোল্টেজ রিভিউ মিটিংয়ে গম্ভীরকে বুঝিয়ে দেওয়া হতে পারে যে, চুক্তি থাকলেও তিনি আর আগের মতো ‘নিরাপদ’ নন।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন