সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এ বার সরাসরি আছড়ে পড়ল স্থানীয় প্রশাসনে। বাগদা ব্লকের সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতে অবসান ঘটল দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে বেরিয়ে এই পঞ্চায়েতের ব্যাটন এখন ভারতীয় জনতা পার্টি-র হাতে। মঙ্গলবার এক ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে পঞ্চায়েতটিতে নতুন বোর্ড গঠন করে বিজেপির সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসনের সংখ্যা ৩০টি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই অত্যন্ত জোরালো হয়েছিল, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ১৬টি এবং বিজেপি ১৪টি আসনে জয়লাভ করে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে তৃণমূলই বোর্ড গঠন করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় পঞ্চায়েত পরিচালনায় নানা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। একের পর এক বিতর্ক ও চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রধান শম্পা মণ্ডল এবং উপপ্রধান সৌমেন ঘোষ। শীর্ষ নেতৃত্বের ইস্তফার কারণে পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজকর্ম কার্যত থমকে যায়, চরম বিপাকে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ।
অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সিন্দ্রানী পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসা তারক ব্যানার্জী জানান, মঙ্গলবার নতুন প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনের জন্য বিশেষ সভার আহ্বান জানানো হয়েছিল। নিয়মমাফিক পঞ্চায়েতের সমস্ত সদস্যকেই লিখিত চিঠি পাঠিয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। তবে ভোটাভুটির সময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ী ১৬ জন সদস্যের কেউই সভায় যোগ দেননি। ফলে পঞ্চায়েতে উপস্থিত বিজেপির ১৪ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন। নতুন প্রধান হয়েছেন অনামিকা বিশ্বাস এবং উপপ্রধান হয়েছেন প্রদ্যুৎ মণ্ডল।
বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে এই প্রথম কোনো পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব পেল বিজেপি। বাগদা ৩ নম্বর মন্ডলের বিজেপি সভাপতি নিতাই বিশ্বাস বলেন, "আইন ও সরকারি নিয়ম মেনেই সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও আমরা সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ থামিয়ে রাখতে পারি না। এই নতুন বোর্ড এলাকার সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
দায়িত্বভার গ্রহণ করেই নবনির্বাচিত প্রধান অনামিকা বিশ্বাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁদের অগ্রাধিকারের কথা। তিনি জানান, "দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতের কাজ থমকে থাকায় আমজনতার ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছিল। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো থমকে থাকা সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা এবং পরিষেবা স্বাভাবিক করা।"
এ দিন পঞ্চায়েত এলাকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। নতুন বোর্ড গঠনকে ঘিরে পঞ্চায়েত চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন বহু বিজেপি কর্মী ও সমর্থক। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকা জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম অশান্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন