সমকালীন প্রতিবেদন : গোবরডাঙা পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ছবি সামনে এল। পুরপ্রধান, উপপুরপ্রধান সহ মোট ১৪ জন কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগে কার্যত ভেঙে পড়েছে পুরবোর্ড। পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে জমা পড়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা, পাশাপাশি পুরসভার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। সেদিন প্রথমে চারজন কাউন্সিলর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর সোমবার আরও ১০ জন কাউন্সিলর একই সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন জনপ্রতিনিধি তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, গোবরডাঙা পুরসভায় মোট ১৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর এবং একটি ওয়ার্ডে বামপন্থী কাউন্সিলর রয়েছেন। পদত্যাগকারী ১৪ জনের পাশাপাশি ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরও দু'জন তৃণমূল কাউন্সিলর এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেননি। জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত কারণের জন্য তাঁরা উপস্থিত হতে পারেননি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁরাও পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে সূত্রের খবর।
পদত্যাগকারী কাউন্সিলরদের মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসন্তী ভৌমিক, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অসীম তরফদার এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্রলেখা দত্ত তাঁদের সিদ্ধান্তের পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা তুলে ধরেছেন। কারও বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। আবার কেউ জানিয়েছেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। যদিও তাঁরা সরাসরি কিছু না বললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের চাপের বিষয়টিও তাঁদের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে।
গোবরডাঙা পুরসভার পদত্যাগী পুরপ্রধান শংকর দত্ত বলেন, “সাম্প্রতিক নির্বাচনে আমরা বুঝতে পেরেছি, সাধারণ মানুষ আর আমাদের প্রতি আগের মতো আস্থা রাখছেন না। পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবাও আমরা প্রত্যাশিত মানে পৌঁছে দিতে পারছিলাম না। তার সঙ্গে আমার নিজের শারীরিক সমস্যাও রয়েছে। তাই পুরসভার স্বাভাবিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গোবরডাঙা পুরসভা উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম পুরনো এবং গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা হিসেবে পরিচিত। তাই এই পুরসভায় একসঙ্গে এত সংখ্যক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগ প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আগামী দিনে গোবরডাঙা পুরসভার পরিচালন ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে ওঠে এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন