Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

জমি বিবাদে ভাইকে পিটিয়ে খুন, ১৪ বছর পর দাদাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল বনগাঁ আদালত



সমকালীন প্রতিবেদন : জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরে আপন ছোট ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুনের অপরাধে দাদাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার বনগাঁ আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক টু আদালতের বিচারক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দোষী সাব্যস্ত হরিনারায়ণ ঘোষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে। ২০১২ সালের ১৭ মে গাইঘাটা থানার বৈকারা এলাকায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সেদিন দুপুরে দেবুপ্রসাদ ঘোষ যখন ভাত খাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় তাঁর বড় দাদা হরিনারায়ণ ঘোষ হঠাৎই একটি কাঠের পাটাতন নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে।

গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেবুপ্রসাদবাবুকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী অলকা ঘোষ বাদী হয়ে ভাসুর হরিনারায়ণ ঘোষের বিরুদ্ধে গাইঘাটা থানায় একটি লিখিত খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। সরকারি আইনজীবী জয়দেব হালদার জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১৬ জন সাক্ষীর বয়ান ও মামলার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত হরিনারায়ণকে দোষী সাব্যস্ত করে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে।

মামলা চলাকালীনই একসময় মৃত্যু হয় মূল অভিযোগকারী অলকা ঘোষের। আদালতের এই রায়ের পর আবেগঘন হয়ে পড়েন সরকারি আইনজীবী জয়দেব হালদার। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, "স্বামীর খুনের সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় অলকা দেবী দিনের পর দিন আমার চেম্বারের বাইরে এসে বসে থাকতেন। অধীর আগ্রহে জানতে চাইতেন, কবে সাজা পাবে খুনি? আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই ন্যায়বিচার মিলল ঠিকই, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অলকা দেবী নিজে তা দেখে যেতে পারলেন না।"

দীর্ঘ ১৪ বছর পর আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। মৃত দেবুপ্রসাদ ঘোষের পুত্র অভিজিৎ ঘোষ জানান, "এত বছর পর বাবার খুনের সঠিক বিচার পেয়ে আমরা স্বস্তিত। আজ মা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।"

তৎকালীন সময়ে গাইঘাটার এই নৃশংস ভাই-খুনের ঘটনাটি গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। জমি ও পারিবারিক সম্পত্তির লোভে আপন ভাইকে পিটিয়ে মারার এই মামলায় দেরিতে হলেও আইনানুগ বিচার মেলায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন