সমকালীন প্রতিবেদন : মহাদেবের প্রতি অপরিসীম ভক্তি আর দৃঢ় মানসিক বলকে সম্বল করে এক অসাধ্য সাধনের পথে পা বাড়ালেন উত্তর ২৪ পরগনার এক সাধারণ যুবক। সীমান্তবর্তী বাগদা ব্লকের বৈকোলা গ্রামের বাসিন্দা রাম বিশ্বাস খালি পায়ে হেঁটে মধ্যপ্রদেশের বিখ্যাত উজ্জয়িনী মহাকাল মন্দিরের উদ্দেশে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও এলাকায় তাঁর মূল পরিচয় এখন একনিষ্ঠ শিবভক্ত হিসেবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাম বিশ্বাসের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। মা ও দাদাকে নিয়ে তাঁর সংসার। দাদা পেশায় দিনমজুর। এর আগে জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্যে গিয়ে পুণে থেকে খালি পায়ে হেঁটে কেদারনাথ দর্শনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই কঠিন পথ অতিক্রম করার পরই মহাদেবের চরণে নিবেদিত হয়ে আরও এক দীর্ঘ ও দুর্গম ধর্মীয় যাত্রার সংকল্প নেন তিনি।
রাম বিশ্বাসের এই ব্যতিক্রমী যাত্রাকে ঘিরে বৈকোলা সহ সংলগ্ন এলাকায় এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা দেখা যায়। যাত্রার দিন সকালেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হন অসংখ্য মানুষ। কেউ পুষ্পবৃষ্টি করেন, কেউ চরণ স্পর্শ করেন, আবার কেউ এই দীর্ঘ যাত্রায় সহায়তার জন্য খাবার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন তাঁর হাতে। ভক্তদের মতে, নিজেরা সরাসরি উজ্জয়িনী যেতে না পারলেও রাম বিশ্বাসের মাধ্যমেই তাঁরা মহাকাল মন্দিরে নিজেদের মনের ব্যাকুলতা ও প্রার্থনা পৌঁছে দিতে চান।
দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরিকল্পনা জানিয়ে রাম বিশ্বাস বলেন, এই যাত্রাপথে রাতের বেলা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তিনি বিভিন্ন পুলিশ থানা, পেট্রোল পাম্প কিংবা সুরক্ষিত স্থানে বিশ্রাম নেবেন। ধাপে ধাপে পথ চলেই তিনি পৌঁছবেন স্বপ্নের উজ্জয়িনীতে।
এক সাধারণ রাজমিস্ত্রির এই অসামান্য ধর্মীয় নিষ্ঠা ও কঠিন সংকল্প এখন বাগদার ঘরে ঘরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাম বিশ্বাস যাতে সুস্থ শরীরে নিরাপদে মহাকাল ধামে পৌঁছে তাঁর সংকল্প পূরণ করতে পারেন, সেই প্রার্থনাই করছেন এলাকার বাসিন্দারা।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন