এদিনের অনুষ্ঠান থেকে রাজ্য এবং রাজ্য-পোষিত ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে মোট ২৯৬ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মিড-ডে মিলের একটি বড় বৈষম্য দূর করার ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন। আগে যেখানে হাইস্কুল ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা এবং প্রাথমিক স্তরে ছিল মাত্র ৬.৭৮ টাকা, সেখানে এখন থেকে সমতা এনে প্রাথমিক বিভাগেও পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হলো।
বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কলকাতা পুরসভা এলাকা-সহ রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের গুরুদায়িত্ব ‘ইসকন’-কে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতার একাংশে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইসকনের মাধ্যমে সাত্ত্বিক ও শুদ্ধ প্রোটিনযুক্ত খাবার পরিবেশন শুরু হতে চলেছে।
তবে বৈষ্ণবীয় আদর্শ মেনে চলা ইসকন খাবার সরবরাহ করবে জানার পর থেকেই শিক্ষামহলে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি খুদেদের মেনু থেকে ডিম চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে? সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের নিরামিষ আহারের পুষ্টিগুণ সংক্রান্ত এক মন্তব্যে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ানোর পর এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।
সেই সমস্ত অপপ্রচারের ফানুস ফাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, শিশুদের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই ১ আগস্ট থেকে ইসকন মূল রান্না করা খাবার স্কুলে পৌঁছে দিলেও, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদা করে প্রতিটি স্কুলে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার সমান্তরাল ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য দেখে পরবর্তীতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলেই এই মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ঘোষণায় অবশেষে মিড-ডে মিল ঘিরে চলা দীর্ঘ জল্পনায় ইতি টানল রাজ্য প্রশাসন।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন