সমকালীন প্রতিবেদন : সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়াকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তৎপরতা এক নতুন মোড় নিল। দলের তহবিল সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে এবার তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে তলব করল ইডি। চলতি সপ্তাহেই দলের আয়-ব্যয়ের নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কাগজপত্র নিয়ে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির এবং অন্যদিকে ৬৮ জন বিধায়ককে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। এই সাংগঠনিক ফাটলের পর দলের নাম, প্রতীক এবং বিপুল অঙ্কের তহবিলের মালিকানা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোর আইনি লড়াই শুরু হয়।
আগে অরূপ বিশ্বাস দলের কোষাধ্যক্ষ থাকাকালীন ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানান। এরপরই কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব দিয়ে অ্যাকাউন্টের ‘সাইনিং অথরিটি’ বা সইয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, দলের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও সম্প্রতি উঠে আসা প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সত্যতা যাচাই করতেই সরাসরি এই স্বাক্ষরকারী পদাধিকারীকে তলব করা হয়েছে।
ইডি কর্তৃক তৃণমূলের মোট ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট নেতৃত্ব। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে সেই অন্তর্বর্তীকালীন আর্জি খারিজ হয়ে যায়। আদালতের এই নির্দেশের ফলে বিতর্কিত তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকাসহ সমস্ত অ্যাকাউন্টই আপাতত অবরুদ্ধ থাকছে।
এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষ নিয়মটিই বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদালত নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আইনি খরচের মতো জরুরি প্রয়োজনে দুই অনুমোদিত সইকারীর চেকে স্পেশ্যাল অফিসার পাল্টা সই করলেই কেবল অর্থ তোলা সম্ভব হবে।
সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ শুভাশিস চক্রবর্তী ইডির সমন প্রসঙ্গে জানান, তিনি বিষয়টি দলের উচ্চতর নেতৃত্বকে জানিয়েছেন এবং হাজিরা দেওয়ার জন্য ইডির কাছে কিছুটা অতিরিক্ত সময় চেয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
উল্লেখ্য, ইডি এবং সিআইডির বিগত কয়েকটি অভিযানের সময় কালীঘাটে দলীয় কার্যালয় ও দলনেত্রীর বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় তদন্তকারীদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেখা গিয়েছিল এই বর্ষীয়ান নেতাকে। এবার সরাসরি তাঁকেই ইডি দপ্তরে তলব করায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন