সমকালীন প্রতিবেদন : হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়া কোনও মানুষের জীবন কীভাবে তাৎক্ষণিক সতর্কতায় বাঁচানো সম্ভব, তা নিয়ে এক সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হলো তিলোত্তমায়। সম্প্রতি কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের ‘মতিলাল ওশোয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি’র কার্যালয়ে সংস্থার কর্মীদের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে ‘বেসিক লাইফ সাপোর্ট’ প্রদান করা যায়, সেই বিষয়ে কর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন কলকাতা হার্ট লাং সেন্টারের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্ট ডাঃ সৌরেন্দ্র শঙ্কর দাস।
দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ কেউ গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার পরিভাষায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা প্রথম কিছু মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সময় হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসা পাওয়ার আগে সাধারণ মানুষের দেওয়া প্রাথমিক চিকিৎসায় বহু প্রাণ বেঁচে যেতে পারে। কর্মশালায় মতিলাল ওশোয়াল ফাইন্যান্সের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ সৌরেন্দ্র শঙ্কর দাস বর্তমান সময়ে ‘কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন’ বা সিপিআর-এর অপরিসীম গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলেন।
তিনি কর্মীদের শেখান, কীভাবে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বুকে সঠিক নিয়মে চাপ দিয়ে তাঁর হৃদযন্ত্র সচল রাখার চেষ্টা করতে হয়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সংস্থার কর্মীরা ডামি বা পুতুলের ওপর হাতে-কলমে এই জীবনদায়ী পদ্ধতির অনুশীলন করেন।
ডাঃ দাস জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে সিপিআর সংক্রান্ত সচেতনতা এখনও অনেকটাই কম। অথচ ঘরে-বাইরে বা কর্মক্ষেত্রে এই পদ্ধতি জানা থাকলে বহু আকস্মিক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। সেই কারণে পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও যখনই তিনি সময় ও সুযোগ পান, তখনই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সিপিআর-এর সঠিক কৌশল পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অর্থলগ্নি সংস্থার আধিকারিক ও কর্মীরা এই ধরণের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং জীবনদায়ী প্রশিক্ষণ পেয়ে চিকিৎসকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মহানগরের শিক্ষামহল ও সচেতন নাগরিক সমাজও চিকিৎসকের এই জনমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন