Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে ফিরছে এশিয়া কাপ ২০২৭: ভারত-বাংলাদেশ বরফ গলার ইঙ্গিতে কাটল আয়োজক জট

 ‌

Asia-Cup-2027

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৫ সালের বিতর্কিত আসরের রেশ কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়াতে চলেছে এশিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘এশিয়া কাপ ২০২৭’। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার ওয়ানডে বা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে এই মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে, আগামী ২০২৭ সালের ১৮ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে বসবে এশিয়ার সেরা লড়াইয়ের আসর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে চলায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবোয়েতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বকাপের আগে এই মহাদেশীয় লড়াই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। ২০২৫ সালের আসরটি টি-২০ ফরম্যাটে হলেও, ২০২৭ সালে এশিয়া কাপ আবারও তার চেনা ওয়ানডে সংস্করণে ফিরছে। আর এই ফরম্যাটের প্রত্যাবর্তনের কারণেই রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে আবারও এশিয়া কাপের মঞ্চে খেলতে দেখা যেতে পারে বলে ক্রিকেট মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, আসন্ন এই আসরে মোট ছয়টি দল অংশ নেবে– ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং একটি সহযোগী দেশ। টুর্নামেন্টে সর্বমোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে এশিয়া কাপের শিরোপাধারী ভারতই এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামবে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এখনও আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ না করলেও, টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার হারাতে পারে বলে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। আইপিএল ২০২৬-এ বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক, পরবর্তীতে বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ভারতের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে একপ্রকার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেয়। ফলে এশিয়া কাপ অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এই মেঘ কাটতে শুরু করেছে। বর্তমান বিসিবি নেতৃত্ব স্বীকার করেছে যে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। একই সাথে তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে বিশেষ জোর দিচ্ছে। বিসিবি-র এই ইতিবাচক মনোভাবের কারণেই বাংলাদেশে এশিয়া কাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের মূল আয়োজক ছিল ভারত। কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ভারত কাগজে-কলমে আয়োজক থাকলেও ম্যাচগুলো দুবাই ও আবুধাবির নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এদিকে, আগামী দিনে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্তমান সভাপতি মহসিন নকভির মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিলে শেষ হতে চলেছে। এসিসি-র রোটেশন নীতি অনুযায়ী, এরপরের সভাপতি মনোনীত করার সুযোগ আসবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাতে। এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন অন্য দেশে সরে যাওয়ার আশঙ্কাও পুরোপুরি দূর হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন