Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

মৃত্যুকে উপেক্ষা করে এ বছরই বাংলাদেশে ফেরার অকুতোভয় ঘোষণা শেখ হাসিনার

 

Sheikh-Hasina

সমকালীন প্রতিবেদন : মাথায় ঝুলছে অসাংবিধানিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া, দেশে ফিরলেই নিশ্চিত বন্দিদশা। সমস্ত চক্রান্ত ও প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার অকুতোভয় ঘোষণা করলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ ইমেল সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। সমস্ত বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এই বছরেই আমি স্বদেশে ফিরছি।"

২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে সংরক্ষণ-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন দীর্ঘতম মেয়াদের এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অনুপস্থিতিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। 

এই রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "একটি নির্বাচনহীন, অসংসদীয় সরকারের অনৈতিক বিচারপ্রক্রিয়া দিয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করার চক্রান্ত চলছে। তবে এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।" ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। 

বর্তমানে বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলেও হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়নি তারা। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা বা ক্ষমতার লোভ থেকে নয়; বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থেই তিনি দেশবাসীর পাশে দাঁড়াতে চান। 

বিএনপি-র সাথে কোনো গোপন সমঝোতার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ প্রার্থী নয়। এটি কোনো কাগুজে সংগঠন নয়, জনগণের পার্টি। যতবারই এই দলকে নিষিদ্ধ বা আঘাত করা হয়েছে, ততবারই জনসমর্থন নিয়ে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।" একই সাথে বাংলাদেশে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নির্যাতন এবং নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মতোই বর্তমান সরকারও এই নির্যাতনের সত্যতা অস্বীকার করছে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রত্যয়ের সাথে জানান, বাংলাদেশের মাটিতে ধর্মীয় আগ্রাসন এবং মৌলবাদকে কখনোই মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে সবকিছু হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মুজিবকন্যা আরও একবার প্রমাণ করলেন, দেশের স্বার্থে যেকোনো চরম চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি আজও প্রস্তুত।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন