Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

রাজনৈতিক জট কাটিয়ে অবশেষে হস্তান্তর: পেট্রাপোলের আধুনিক নতুন ভবনে যাচ্ছে থানা

 

New-building-of-Petrapole-PS

সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো পেট্রাপোল থানার নবনির্মিত আধুনিক ভবনটি। শনিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভবন হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এদিন ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিং বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের হাতে নতুন ভবনের চাবি তুলে দেন। এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডিজি ড. রাজেশ কুমার সিং, বারাসত রেঞ্জের আইজি অমিত পি জাভালগি এবং পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ম্যানেজার কমলেশ সাহানী।

২০১৬ সালে পেট্রাপোল থানার পথ চলা শুরু হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একদম ‘জিরো পয়েন্ট’ সংলগ্ন একটি অস্থায়ী ভবনে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের একদম মুখোমুখি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের আইনি প্রয়োজনে সেখানে পৌঁছাতে নানা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো।

সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ দূর করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সর্বাধুনিক মডেল থানা ভবন নির্মাণ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং এই অত্যাধুনিক নতুন থানা ভবনটির উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

সূত্রের খবর, কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের যাঁতাকলে আটকে ছিল এই আধুনিক মডেল থানাটি। প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে উদ্বোধনের পরেও দীর্ঘদিন নতুন ভবনে থানা স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়নি। আর এরজন্য রাজ্যের বিদায়ী তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করেছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া।

তবে সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই এই অচলাবস্থা কাটানোর তৎপরতা শুরু হয়। আটকে থাকা প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত দূর করে অবশেষে শনিবার রাজ্য পুলিশের কাছে এই ভবন হস্তান্তর করা হলো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়াও।

ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি এবং পুলিশ প্রশাসনের আশা, নতুন এই আধুনিক ভবনে থানা স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অপরাধ দমনে পুলিশ যেমন আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে, তেমনই সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীরাও অনেক সহজে এবং স্বাচ্ছন্দে পুলিশি পরিষেবা পাবেন।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন