Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

চার লেনের হবে যশোর রোড, আশ্বাস বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলের

 

MLA-Debdas-Mondal

সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ এবং কলকাতার মধ্যে যাতায়াত এবং ব্যবসা বানিজ্যের সুবিধার্থে একসময় যশোর রোডের সম্প্রসারণ অথবা বিকল্প রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেইসময় তৃণমূলের জমি অধিগ্রহণ নীতির কারণে সেই কাজ বাস্তবে রুপ পায় নি। সরকার বদলেছে। এখন সেই পুরনো দাবি নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়ে হাবড়ার বিধায়ক দেবদাস মন্ডল জানালেন, 'যশোর রোড ফোর লেনের হবে। এব্যাপারে বনগাঁ থেকে বারাসত পর্যন্ত যতজন বিধায়ক আছেন আমরা সবাই সহযোগিতা করবো।'‌

তিনি বলেন, 'তৃণমূলের জমানায় বনগাঁর মানুষ যে উন্নয়ন দেখেছে, তা আসলে কতিপয় নেতার ব্যক্তিগত উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের দোকান বা জমি কেড়ে নেওয়ার নাম উন্নয়ন হতে পারে না। এবার মানুষ সত্যিকারের উন্নয়ন চাক্ষুষ করবে।' শনিবার বনগাঁ সাব ডিভিশনাল চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত হয়ে রাজ্যের ‌প্রাক্তন শাসকদলের নেতাদেরকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করলেন হাবড়ার বিধায়ক তথা বনগাঁর কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডল।

এদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেবদাস বাবুকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের পদাধিকারীরা। মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় চেম্বার অব কমার্সের কর্মকর্তারা অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একসময় বনগাঁর ব্যবসায়ী মহলের ওপর নানাবিধ অত্যাচার চালানো হতো। ভয়ে কেউ মুখ খোলার বা প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না। সেই চরম আতঙ্কের দিনগুলিতেও দেবদাস মণ্ডল একাই নির্ভয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বদলেছে, সাধারণ মানুষও এখন নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দেবদাস বাবুর মতো লড়াকু নেতাদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে জানান তাঁরা।

সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সুর চড়ান দেবদাস মণ্ডল। তিনি বলেন, 'সেই প্রতিকূল সময়ে যখন ভয় পাইনি, এখন ভয় পাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমিই প্রথম প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়েছিলাম, আর আজ তার ফলশ্রুতিতে মানুষ নির্ভয়ে মুখ খুলছেন। সাধারণ মানুষের কাছে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনও নথি থাকে, তবে নির্ভয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান, বিচার পাবেন।' 

দুর্নীতিগ্রস্ত ও অত্যাচারী তৃণমূল নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'অত্যাচারী নেতাদের কোমরে দড়ি বেঁধে বাটার মোড়ে ঘোরানো হবে, কেউ রেহাই পাবে না। ইতিমধ্যেই এক একজনের নামে থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছে।' এর পাশাপাশি বনগাঁর পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, এবার থেকে আর কারও ব্যক্তিগত পকেট ভরবে না, বরং যশোর রোড ফোর লেনের করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রকৃত উন্নয়ন করা হবে।

ব্যবসায়ীদের এই নতুন করে আশাবাদী হওয়া প্রসঙ্গে বনগাঁ সাব ডিভিশনাল চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক বিনয় সিংহ জানান, অতীতে ব্যবসায়ীরা মন খুলে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারতেন না, কিন্তু এখন সেই জড়তা কেটেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সমস্যার সমাধানও শুরু হয়েছে। বিধায়কদের কাছে ব্যবসায়িক মহলের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দ্রুত সেগুলির স্থায়ী সমাধান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।‌





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন