সমকালীন প্রতিবেদন : গোপালনগর থানা এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া এক দল দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন বর্তমান পঞ্চায়েত উপপ্রধান এবং তৃণমূলের এক প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোপালনগর থানা চত্বরে। ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি আটকে ‘ডিম বৃষ্টি’ করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোপালনগর থানার পুলিশ সারদা পল্লী এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি নির্জন জায়গায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে বেশ কিছু দুষ্কৃতী জড়ো হয়েছিল। এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ হাতেনাতে ৫ জনকে আটক করে।
তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ, লোহার শাবল, দড়ি এবং ডাকাতি করার অন্যান্য সরঞ্জাম। প্রাথমিক জেরার পর সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় রাতেই পুলিশ ওই ৫ জনকে গ্রেফতার করে।
ধৃতদের পরিচয় সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানায়, ধৃত ৫ জনের মধ্যে অন্যতম হল গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান উপপ্রধান আলিম তরফদার। বাকি চার ধৃতের নাম— রবি দাস, নুর উদ্দিন মন্ডল, জসিম উদ্দিন মন্ডল এবং রুহুল আমিন মন্ডল।
রাতেই ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করতে শুরু করে পুলিশ। জেরার মুখে ধৃতরা স্বীকার করে যে, এই ডাকাতির ছকের পেছনে বৈরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান তথা বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য হায়দার আলী মোল্লাও জড়িত রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সকালে গোপালনগর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ হায়দার আলী মোল্লাকে গ্রেফতার করে।
শনিবার দুপুরে ধৃতদের গোপালনগর থানা থেকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জনপ্রতিনিধিদের এই অপরাধমূলক কাজের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার বাইরে শয়ে শয়ে মানুষ জড়ো হতে থাকেন।
ধৃতদের নিয়ে পুলিশের গাড়ি আদালত চত্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দিতেই ক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ধৃতদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুঁড়তে থাকেন সাধারণ মানুষ। বেগতিক দেখে পুলিশ তড়িঘড়ি জনতাকে সরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় ধৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে নিয়ে যায়।

.jpeg)






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন