সমকালীন প্রতিবেদন : সরকারি পরিষেবাকে আমজনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক অভূতপূর্ব সাড়া জাগাল রাজ্য সরকারের ‘জনকল্যাণ শিবির’। ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেওয়া এই জনমুখী উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রাথমিকভাব তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত শিবিরের মেয়াদ বাড়িয়ে চার দিন করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এই বিপুল সাফল্যের পর শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, বর্ষাকাল কাটলেই পুনরায় রাজ্য জুড়ে আরও বড় পরিসরে এই জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বড় বড় পুরসভাগুলির ক্ষেত্রে ওয়ার্ড ভিত্তিক এই ধরণের শিবির করার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এই শিবির আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। জনগণের এই চাহিদাকে মান্যতা দিয়েই আগামী দিনে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে রাজ্য।
সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত চার দিনে রাজ্য জুড়ে মোট ৪,০৯৪টি জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে৷ তবে প্রথম দিন ফর্ম বিলি করা নিয়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে স্বীকার করে নেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে ছাপানো বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ফর্মের ওপর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা ছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে সেই সমস্ত ফর্মগুলি বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। যদিও দ্বিতীয় দিন থেকেই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যা সম্পূর্ণ মিটিয়ে ফেলা হয়। প্রথম দিনের এই সাময়িক ত্রুটির কারণেই জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
৪ দিনের এই বিশেষ শিবিরে সবথেকে বেশি উৎসাহ ও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং রাজ্যের নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পটিকে ঘিরে। স্বাস্থ্য বীমার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে চার দিনে রেকর্ড সংখ্যক ২২ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।মহিলাদের জন্য তৈরি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে জমা পড়েছে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৫৯টি আবেদন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই যোজনায় ইতিমধ্যেই ২৮ লক্ষের বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ কোটি ৫ লক্ষ আবেদনপত্র যাচাই (ভেরিফিকেশন) করে সরকারি পোর্টালে আপলোড করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই কারণেই নতুন করে আবেদন করার সংখ্যা কিছুটা কম। এ ছাড়াও সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বার্ধক্য ভাতার জন্য এই চার দিনে সাড়ে ৬ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন