সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ ব্লকের গাঁড়াপোতা শান্তিময় ঘোষ স্মৃতি গ্রন্থাগারে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ ও ভুয়ো ভাউচার তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে লাইব্রেরিয়ান ও পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার জেলা গ্রন্থাগার বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গ্রন্থাগারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম চলছে। তাঁদের মতে, বই ক্রয়ের উদ্দেশ্যে গ্রন্থাগারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা তোলা হলেও বাস্তবে কোনো নতুন বই কেনা হয়নি। টাকা আত্মসাতের জন্য ভুয়ো বিল ও ভাউচার তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, বছরের পর বছর গ্রন্থাগারের আয়-ব্যয়ের কোনো অডিট করা হয়নি। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট পরিচালন সমিতি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে লাইব্রেরিটি চালিয়ে আসছে।
অভিযোগের তীব্রতা বাড়ায় বিষয়টি জেলা প্রশাসন পর্যন্ত গড়ায়। গ্রন্থাগারের সদস্যরা সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলাশাসকের নির্দেশে বুধবার জেলা গ্রন্থাগার বিভাগের প্রতিনিধিদল গাঁড়াপোতায় সরেজমিন তদন্তে যান। তাঁরা লাইব্রেরির গত কয়েক বছরের ভাউচার, বিল ও অন্যান্য নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। তদন্তের স্বার্থে আধিকারিকরা স্থানীয় ব্যাংক শাখায় গিয়ে লেনদেনের বিস্তারিত হিসাবও যাচাই করেন বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী দলের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সমস্ত নথি ও ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের পরই স্পষ্টভাবে বলা যাবে কতটা আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে।” গ্রন্থাগারের বর্তমান সদস্যদের দাবি, এই সমিতির সদস্যরা আগের রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠজন।
এদিকে, গ্রন্থাগারের সাধারণ সদস্য ও এলাকাবাসীরা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা চান, গ্রন্থাগারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর ক্রুটি ধরা পড়লে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন