সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁবাসীর দীর্ঘদিনের দুটি প্রধান দাবি পূরণের লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। ইছামতি নদীর সংস্কার এবং ঐতিহ্যবাহী যশোর রোডের বিপজ্জনক মৃত গাছগুলি কাটার বিষয়ে শুক্রবার বনগাঁর মহকুমা শাসকের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন রাজ্যের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই এই দুটি জনমুখী প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। একই সাথে যশোর রোড সম্প্রসারণের কাজও দ্রুত আরম্ভ হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
গত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বনগাঁর সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল যশোর রোডের বিপজ্জনক ও শুকিয়ে যাওয়া মৃত গাছগুলি দ্রুত অপসারণ করা এবং রাস্তাটির সম্প্রসারণ ঘটানো। পাশাপাশি, কচুরিপানায় বুজে যাওয়া ইছামতি নদী সংস্কারের দাবিতেও সরব ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার মানুষের সেই চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই শুক্রবার ছুটির দিনে মহকুমা শাসকের দপ্তরে এই বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়।
মহকুমা শাসক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোর রোডের পাশে থাকা বিপজ্জনক গাছগুলির একটি সম্পূর্ণ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার ধারের ১১১টি সম্পূর্ণ মৃত গাছকে কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া পথচলতি মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আরও ২৪৭টি গাছের ডালপালা ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এই গাছ কাটা এবং ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি শুরু হবে, যার ফলে যশোর রোডে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানান, শুধু গাছ কাটাই নয়, বনগাঁর প্রাণ ইছামতি নদীকে বাঁচাতে এর উপরিভাগের সমস্ত কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজও দ্রুত হাতে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যশোর রোড চওড়া করার বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "যশোর রোড সম্প্রসারণের কাজ আজ হোক বা কাল নিশ্চিতভাবেই শুরু হবে।"
প্রশাসনের এই জোড়া উদ্যোগে একদিকে যেমন বনগাঁর পরিবেশ ও নদীর নাব্যতা ফিরবে, অন্যদিকে তেমনই জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হবে বলে আশা করছেন বনগাঁর নাগরিক মহল। উল্লেখ্য, যশোর রোডের দুধারের বিপজ্জনক গাছ কেটে ফেলার জন্য রাজ্যের পূর্ত দপ্তর এবং বন দপ্তরকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছেন বনগাঁর পুরপ্রধান দিলীপ মজুমদার।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন