সমকালীন প্রতিবেদন : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মানেই ক্রিকেটের মহোৎসব। তবে গত কয়েক মরসুম ধরে মে মাসের চড়া রোদ, অসহ্য গরম এবং কালবৈশাখীর বৃষ্টি এই মেগা টুর্নামেন্টের আনন্দকে কিছুটা হলেও ফিকে করে দিচ্ছিল। অত্যধিক গরমে ক্রিকেটারদের অসুস্থ হয়ে পড়া, শরীরে জলশূন্যতা ও ক্র্যাম্পের সমস্যা যেমন বাড়ছিল, তেমনই বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাচ্ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই সমস্ত প্রতিকূলতা এড়াতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আগামী মরসুম, অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে আইপিএলের সময়সূচিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
বোর্ডের উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, সাধারণত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে যে টুর্নামেন্ট শুরু হতো, তা এবার প্রায় ২০ দিন এগিয়ে আনা হতে পারে। সংবাদসংস্থা এবং বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের আইপিএল শুরু হতে পারে আগামী ১০ মার্চ থেকে এবং তা শেষ হবে ১৫ মে-র মধ্যে। বিসিসিআইয়ের যুগ্ম সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নিজেই এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও বোর্ডের তরফ থেকে কোনও চূড়ান্ত বা সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।
২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হয়েছিল ২৮ মার্চ এবং তা চলেছিল মে মাসের শেষ পর্যন্ত। মরসুমের মাঝপথে অতিরিক্ত বিরতি থাকার কারণে টুর্নামেন্ট ৩১ মে পর্যন্ত টানতে হয়েছিল। যার ফলে মে মাসের শেষের দিকে দেশের একাধিক প্রান্তে প্রবল গরম এবং অসময়ের বৃষ্টিতে ম্যাচ ব্যাহত হয়। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে কেকেআর বনাম পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচ সহ বেশ কয়েকটি খেলা বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। বিশেষ করে দুপুরের ম্যাচগুলোতে ক্রিকেটার ও দর্শকদের চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, “গরম এবং বৃষ্টির জোড়া সমস্যা থেকে ক্রিকেটার ও সমর্থকদের রেহাই দিতেই আমরা টুর্নামেন্ট এগিয়ে আনার কথা ভাবছি। যদি ১৫ বা ১০ মার্চ খেলা শুরু করা যায়, তবে ১৫ মে-র মধ্যেই ফাইনাল পর্ব মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। মে মাসের শেষ সপ্তাহের আবহাওয়া বেশ অনিশ্চিত থাকে, তাই এই অগ্রিম পরিকল্পনা।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সমস্ত বিষয়টিই এখন আলোচনার স্তরে রয়েছে।
সূচির এই পরিবর্তনের ফলে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। আইপিএল শুরুর ঠিক আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হাই-প্রোফাইল বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি খেলবে টিম ইন্ডিয়া। সেই টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার কথা ৩ মার্চ। ফলে শুভমন গিলদের মতো ক্রিকেটাররা, যাঁরা লাল বলের ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মূল স্তম্ভ, তাঁরা বিশ্রামের বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন না। টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁদের কোটিপতি লিগের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেমে পড়তে হবে।
এদিকে, আইপিএলের পরিধি বা ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তা আপাতত নাকচ করে দিয়েছে বোর্ড। বর্তমানে ১০টি দল নিয়ে মোট ৭৪টি ম্যাচের যে কাঠামো রয়েছে, ২০২৭ সালের আইপিএলেও তা অপরিবর্তিত থাকবে। ম্যাচ সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৪ করার কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। সচিবের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখেই ২০২৭ সালের পর এই বিষয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা হতে পারে। আপাতত মে মাসের চড়া রোদ আর বৃষ্টির হাত থেকে কোটিপতি লিগকে বাঁচানোই বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন