সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে পারদ চড়ছে বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে। আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আর সেই মেগা বাজেটের খসড়া তৈরির চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝেই আকস্মিক দিল্লি সফরে গেলেন অর্থমন্ত্রী। বুধবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে এক জোড়া হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি।
অন্যদিতে, বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা এলাকায় এক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের অন্যতম মেগা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অগ্রগতি এবং আসন্ন বাজেট নিয়ে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে সরকার গঠনের পর পরই চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এদিন ফলতার মঞ্চ থেকে বড় তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদায়ী তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে টেক্কা দিতে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, "গত ৩ জুন রাজ্যের ২৮ লক্ষ মা-বোনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মাঝেই আরও ১ লক্ষ ৫ হাজার নতুন আবেদনকারীর নাম নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁদের ভেরিফিকেশন বা সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ করে তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই এই নতুন আবেদনকারীরাও জুন মাসের ৩ হাজার টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন।"
এখনও যে সমস্ত যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কোনও চিন্তা করবেন না। বাকিরা জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন, সরকারি আধিকারিকেরা সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবে।"
আসন্ন ২২ জুনের বাজেট নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যুবক-যুবতী, সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাজেটে একাধিক নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। যেহেতু বাজেট এখনও পেশ হয়নি, তাই এই মুহূর্তে বিস্তারিত ভাঙছি না। তবে কৃষকদের জন্যও বড়সড় উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষ যে আশা-ভরসা নিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন, সেই ভরসার মর্যাদা আমরা রাখবই।"
বর্তমানে রাজ্যের কোষাগারে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জনমোহিনী প্রকল্পগুলোর খরচ সামলে বাজেটে নতুন চমক দেওয়া নতুন সরকারের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই বাজেট পেশের মাত্র কয়েকদিন আগে দিল্লির দ্বারস্থ হয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বুধবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং নীতি আয়োগের শীর্ষকর্তা অশোক লাহিড়ীর কাছ থেকে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিশেষ পরামর্শ নিতেই এই বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লির বৈঠক শেষে বাজেটের মূল নির্যাস নিয়ে মুখ না খুললেও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানান, "বাংলায় দুর্বল রাজনীতি বন্ধ করে এবার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান ও রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আর এই কাজ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে যৌথভাবেই নজরদারি চালাতে হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর এদিনের জোড়া বার্তার পর, আগামী ২২ জুন বিধানসভায় বাংলার অর্থনৈতিক মোড় ঘোরানোর মতো কী কী বড় ঘোষণা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল ও আপামর জনসাধারণ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন