সমকালীন প্রতিবেদন : কলকাতার যানজট সমস্যা নিরসনে অবশেষে খুশির খবর। দীর্ঘদিনের টালবাহানা ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্পের লাইন জোড়ার কাজ শুরু হতে চলেছে। নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট (অরেঞ্জ লাইন) করিডরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অংশের কাজ থমকে থাকায় এতদিন পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে জট কাটিয়ে সেখানে রেলের পিলারের সঙ্গে লাইন সংযোগের কাজ শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে।
বাইপাসের অত্যন্ত ব্যস্ত এই অংশে ৩৬৬ মিটার লাইন জোড়ার কাজ করার জন্য কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি মিলছিল না। তবে হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর পুলিশ শেষ পর্যন্ত যান নিয়ন্ত্রণে সম্মতি দিয়েছে। কাজ চলাকালীন ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুটি সপ্তাহান্তকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৫ থেকে ১৮ মে এবং ২২ থেকে ২৪ মে– এই দুই দফায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ চলবে।
কেন্দ্র ও রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে মেট্রোর অমীমাংসিত প্রকল্পগুলোতে বাড়তি গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, আগে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে যে প্রকল্পগুলো থমকে ছিল, এখন সেগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত নিষ্পত্তির কাজ চলছে। চিংড়িঘাটার এই বাধা দূর হওয়াকে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন আধিকারিকরা।
কেবল অরেঞ্জ লাইন নয়, জোরকদমে কাজ এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে শহরের অন্যান্য মেট্রো প্রকল্পগুলোতেও।
পার্পল লাইন (জোকা-এসপ্ল্যানেড): এসপ্ল্যানেডের বি.সি. রায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে চাইছে রেল। এটি সম্পন্ন হলে বেহালা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হবে।
ইয়েলো লাইন (নোয়াপাড়া-বারাসত): এই লাইনেও নতুন আশার বাতাস বইছে। মাইকেল নগর পর্যন্ত কাজ এগোনোর পর বারাসত অংশে ভূগর্ভস্থ লাইন তৈরির প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে সক্রিয় হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
ভোটের আবহ কাটতেই কলকাতার মেট্রো মানচিত্রে একের পর এক জট খুলে যাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। চিংড়িঘাটার এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে অরেঞ্জ লাইনে নিউ গড়িয়া থেকে সরাসরি এয়ারপোর্ট পৌঁছানোর স্বপ্ন খুব শীঘ্রই বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন