Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

৯৪ ম্যাচের মহাযজ্ঞ! আইপিএল-এর কলেবর বৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ বিসিসিআই-এর

 ‌

Expansion-of-IPL

সমকালীন প্রতিবেদন : বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) অদূর ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে। বর্তমানে ১০টি দলের উপস্থিতিতে ৭৪টি ম্যাচ খেলা হলেও, ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৪ করার নীল নকশা তৈরি করে ফেলেছে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। টুর্নামেন্টের চেয়ারম্যান অরুণ ধূমল সম্প্রতি ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। মূলত প্রতিটি দলের জন্য ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

২০২২ সাল থেকে আইপিএল-এ ১০টি দলের অংশগ্রহণ শুরু হয়েছে। কিন্তু সময়ের অভাবে বর্তমানে সব দল একে অপরের বিরুদ্ধে দুবার খেলার সুযোগ পায় না। বরং একটি ‘ভার্চুয়াল গ্রুপিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। বিসিসিআই-এর লক্ষ্য, পুরনো ‘ডাবল রাউন্ড-রবিন’ পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া, যেখানে প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে দুবার করে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে টুর্নামেন্টে মোট ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৪-এ।

আইপিএল চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিগের ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা কার্যত নেই। কারণ হিসেবে তিনি আইসিসি-র ‘ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম’-কে দায়ী করেছেন। ২০২৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত। অরুণ ধূমলের মতে, ৯৪টি ম্যাচের আয়োজন করতে হলে আন্তর্জাতিক সূচি থেকে অন্তত আড়াই মাসের একটি নিরবচ্ছিন্ন সময়ের প্রয়োজন। এই দীর্ঘ সময়ের জোগান দিতে ভবিষ্যতে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা কমানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের গুরুত্ব বুঝে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কমিয়ে আনছে।

ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থ। দিনে দুটি করে ম্যাচ (ডাবল হেডার) বাড়ালে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলেও সম্প্রচারকারীরা এতে খুব একটা আগ্রহী নন। তাঁদের মতে, দিনে দুটি ম্যাচ থাকলে দর্শকদের একাগ্রতা কমে এবং বিজ্ঞাপনের রাজস্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বোর্ড এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে যেখানে ‘ডাবল হেডার’ কমিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে টুর্নামেন্ট চালানো সম্ভব হবে।

আইপিএল-এর সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের আবহাওয়াও একটি বড় ফ্যাক্টর। অরুণ ধূমল জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময়টিই আইপিএল-এর জন্য আদর্শ। জুন মাস শুরু হতেই দক্ষিণ ভারতে বর্ষা ঢুকে পড়ে, যা টুর্নামেন্ট আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কীভাবে বেশি ম্যাচ করা যায়, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আপাতত নতুন কোনো দল অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই গভর্নিং কাউন্সিলের। বরং বর্তমান ১০টি দলের কাঠামো বজায় রেখেই টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। ২০২৭ পরবর্তী চক্রে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র সঙ্গে আলোচনা করে একটি বড় ‘উইন্ডো’ নিশ্চিত করতে চায় বিসিসিআই। 

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ৯৪ ম্যাচের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে আইপিএল বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘরোয়া লিগে পরিণত হবে। বর্তমানে চলা ১৯তম আসরটি ৩১ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, আগামী বছরগুলোতে ক্রিকেটপ্রেমীরা যে আরও দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেট উৎসবের সাক্ষী হতে চলেছেন, তা এখন কার্যত নিশ্চিত।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন