Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

চোট ও অনুপস্থিতির কাঁটায় বিদ্ধ কোটি টাকার আইপিএল: মাঠের বাইরেই নষ্ট প্রায় ৫৮ কোটি

 ‌

IPL-2026

সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ যখন তার চূড়ান্ত লগ্নে বা ‘বিজনেস এন্ডে’ দাঁড়িয়ে, তখন একটা শব্দই গোটা প্রতিযোগিতাকে সংজ্ঞায়িত করছে– অস্থিরতা। মাঠের লড়াইয়ে ধারাবাহিকতা যেমন অধরা, তেমনি মাঠের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে চোট এবং ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের নিলামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়লেও অনেক মহাতারকাকে মাঠেই নামাতে পারেনি দলগুলো। সব মিলিয়ে স্রেফ না খেলা ক্রিকেটারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।

এবারের আইপিএলে আর্থিক এবং কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাহরুখ খানের কেকেআর। নিলামে বেঙ্কি মাইসোররা যখন তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য এনেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল শিরোপার দাবিদার হিসেবে তারাই এগিয়ে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ও চলাকালীন একের পর এক অঘটনে কেকেআর-এর প্রায় ৩১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার পরিকল্পনা কার্যত জলে গেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকার এই পেসারকে দলেই রাখতে পারেনি নাইট শিবির। এরপর বোলিং বিভাগের মেরুদণ্ড হর্ষিত রানা বিশ্বকাপের আগে লিগামেন্টের চোটে ছিটকে যাওয়ায় বড় বিপাকে পড়ে কেকেআর। ৪ কোটি টাকার এই ক্রিকেটার ছিলেন দলের অন্যতম তুরুপের তাস। এছাড়া ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানা চোটের কারণে দলের হয়ে একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। সব মিলিয়ে কেকেআর-এর বোলিং ইউনিটের একটা বড় অংশই এখন মাঠের বাইরে।

শুধু কেকেআর নয়, চোটের গ্রাসে পড়েছে প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে রোহিত শর্মা, উইল জ্যাকস এবং মিচেল স্যান্টনারকে সব ম্যাচে না পাওয়াটা দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, চেন্নাই সুপার কিংসের ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতি। খলিল আহমেদ বা নাথান এলিসের মতো প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার সম্পদও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না সিএসকে। এমনকি রাজস্থান রয়্যালসও স্যাম কারেনকে নিয়মিত একাদশে পায়নি।

বেন ডাকেটের মতো ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত কারণে নাম প্রত্যাহার করায় দিল্লি ক্যাপিটালসও শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে। অজি মহাতারকা প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক বা জশ হ্যাজেলউডদের মতো উচ্চমূল্যের ক্রিকেটাররাও পুরো টুর্নামেন্টে শতভাগ ফিট ছিলেন না, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বোলিং বিভাগে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ধারাবাহিকতার অভাবে পয়েন্ট তালিকাও এখন যেন মিউজিক্যাল চেয়ার। টুর্নামেন্টের শুরুতে অপ্রতিরোধ্য পাঞ্জাব কিংস হঠাৎ টানা তিন হারে খাদের কিনারায়। অন্যদিকে, শুরুতে ছিটকে যাওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্স টানা চার জয় দিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে। বর্তমানে লিগ টেবিলের যা অবস্থা, তাতে ১০টি দলের মধ্যে অন্তত ৭টি দলের শেষ চারে যাওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনা টিকে আছে।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন