Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

আইপিএল পাসের কালোবাজারি: তদন্তের জালে খোদ ডিডিসিএ কর্তারা

 ‌

Black-Marketing-of-IPL-Passes

সমকালীন প্রতিবেদন : আইপিএল মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর গ্যালারি ভর্তি উন্মাদনা। আর এই উন্মাদনাকে পুঁজি করেই প্রতি বছর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে টিকিটের কালোবাজারি চক্র। তবে এবার আইপিএলের টিকিট ও পাস নিয়ে যে কেলেঙ্কারি সামনে এল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ প্রশাসনের। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচগুলির বিনামূল্যের ‘কমপ্লিমেন্টারি পাস’ চড়া দামে ব্ল্যাকে বিক্রি করার এক বিশাল চক্রের হদিশ পেয়েছে দিল্লি পুলিশ। আর এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে খোদ দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অন্দরেই।

পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন প্রতিবারই ডিডিসিএ-র পক্ষ থেকে প্রায় ৬ হাজার কমপ্লিমেন্টারি বা সৌজন্যমূলক পাস দেওয়া হয়। এই পাসগুলির দায়িত্ব থাকে সংস্থার কিছু পদস্থ আধিকারিক এবং অ্যাকাউন্টস বিভাগের হাতে। তদন্তকারীদের দাবি, সংস্থার বাইরের কেউ নয়, বরং ডিডিসিএ-র ভেতর থেকেই একটি সুসংগঠিত চক্র এই কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ করছিল। 

ম্যাচের গুরুত্ব এবং ক্রিকেটারদের জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে এই পাসের দাম নির্ধারণ করা হতো। উদাহরণ হিসেবে জানা গিয়েছে, বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচের সময় একেকটি সৌজন্যমূলক পাস ব্ল্যাকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে। অন্যান্য সাধারণ ম্যাচগুলির ক্ষেত্রেও পাসের দর হাঁকা হতো ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এই কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। ডিডিসিএ-র কিছু পাস এমন সমস্ত সদস্যদের নামে ইস্যু করা হতো, যাঁরা হয়তো বহু আগে মারা গিয়েছেন, অথবা স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাস করছেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই পাসগুলি অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় পুনরায় তা ডিডিসিএ-র ওই অসাধু চক্রের হাতে ফিরে আসত এবং পরবর্তীতে সেগুলিই মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বাজারে পাচার করে দেওয়া হতো।

এই চক্রের মূল মাথাদের ধরতে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখানে এক পুলিশকর্মী নিজেই ভুয়ো ক্রেতা সেজে কালোবাজারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তের স্বার্থে তিনি একটি টায়ার সারানোর দোকানে গিয়ে টিকিট চাইলে, সেখানকার এক ব্যক্তি তাঁকে ব্ল্যাকে পাস এনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। বিশ্বাস জেতার জন্য ওই পুলিশকর্মী একসঙ্গে ২৫ জন চিকিৎসকের জন্য পাসের বরাত দেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিও তাতে অনায়াসে রাজি হয়ে যায়। প্রমাণস্বরূপ একটি আসল কমপ্লিমেন্টারি পাস দেখানোর পরেই ফাঁদ পেতে পুলিশ এই চক্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বিগত ৮ মে স্টেডিয়ামের বাইরের একটি পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়ে মুকিম, গুফরান এবং মহম্মদ ফৈসল নামে তিন জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই পেট্রোল পাম্পটিকে পাসের কালোবাজারি ও বিলির মূল আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই চক্রের গভীরতা এতটাই বেশি যে, এই পাসগুলি অনলাইন সাট্টাবাজি চক্র, পকেটমার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক দলের কাছেও বিক্রি করা হতো কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ডিডিসিএ-র দু’জন সিইও স্তরের শীর্ষ আধিকারিক এবং তাঁদের এক সহকারীকে নোটিস পাঠিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এর পাশাপাশি সংস্থার একজন জিম ট্রেনার এবং কয়েকজন টিকিট বিক্রেতাও বর্তমানে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের যোগসূত্র সামনে আসায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।‌‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন