সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন তথা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন ঘিরে আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করে দিলেও, প্রায় ২৭ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একদল আবেদনকারী।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আবেদনকারীদের আইনজীবী। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় ট্রাইব্যুনালে যাদের মামলা বিচারাধীন, তারা শেষ পর্যন্ত তালিকায় নাম তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানির দিনেই এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
আবেদনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন আপিল ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি দু’টি ক্ষেত্রে রায় দিয়েছে যে, যথাযথ নথি যাচাই না করেই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের পর ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বাকি ২৭ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নিয়েও দুশ্চিন্তা বেড়েছে। এছাড়া, যাদের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যে আবেদন করা হয়েছিল, সেটিও ১৩ তারিখের শুনানিতে আলোচিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে দু’দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার জন্য ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ৯ এপ্রিল মনোনয়নের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারপ্রক্রিয়ার অধীনে ছিল, যার মধ্যে ৩৩ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় পুনরায় যুক্ত করা হলেও বাকি ২৭ লক্ষ মানুষ এখনও আইনি লড়াই লড়ছেন।
আগামী ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে কয়েক লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এই হস্তক্ষেপ বাংলার নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন